রাজধানীতে বাসায় ডাকাতি, নির্যাতনে একজনের মৃত্যু

‘রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিল। তখন ভবনের তৃতীয় তলার বাসার জানালার গ্রিল কেটে তিনজন ডাকাত বাসায় প্রবেশ করে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে ডাকাতি করা হয়
জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে ডাকাতি করা হয় |নয়া দিগন্ত

রাজধানীর ডেমরার হাজী বাদশা মিয়া রোড এলাকায় মাহবুবুল হক রিপন নামে এক দুবাই প্রবাসীর বাসায় ঢুকে তার স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়িকে অস্ত্রের মুখে আটকে রেখে ডাকাতি ও নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার রিপনের শাশুড়ি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।

সোমবার (৪ মে) মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের ছেলে মাহমুদ বলেন, ‘রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিল। তখন ভবনের তৃতীয় তলার বাসার জানালার গ্রিল কেটে তিনজন ডাকাত বাসায় প্রবেশ করে। সবাই কিছু বুঝে উঠার আগেই অস্ত্রের মুখে সবার হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করতে থাকে। এ সময় বাসায় থাকা স্বর্ণ ও নগদ অর্থসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল নিয়ে যায়। তাছাড়া বাসায় থাকা জমির দলিলও ডাকাতরা নিয়ে যায়। এছাড়াও বাসার বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত সদস্যরা। আমার ভাগ্নি মেহের, আমার মা ও বোন তখন বাসায় ছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘ডাকাতের নির্যাতনের শিকার হয়ে আমার মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আমরা এসে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। পরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘটনাটি থানায় জানানোর পর ঘটনাস্থলে এসে লিখিত নোট নিয়ে গেছে পুলিশ। তারপর আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’

এই বিষয়ে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম মির্জা বলেন, ‘আমরা ডাকাতির বিষয়টি জানতে পেরেছি। সেই বাসায় তিনজন ডাকাত প্রবেশ করে সবকিছু নিয়ে গেছে। তবে তিনজনে লুট করাকে ডাকাতি বলা যায় না। ডাকাতির জন্য কমপক্ষে পাঁচজন লোকের দরকার হয়। তারপরেও আমরা ব্যবস্থ নেবো। আমি এখনো পর্যন্ত এই বিষয়ে পুরোপুরি জানতে পারিনি। ভিকটিমদের পক্ষ থেকে এখনো কেউ থানায় আসেনি, লিখিত কোনো অভিযোগ দেয়নি। সবকিছু জানার পরেই আসল বিষয়টি বোঝা যাবে। পরে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’