সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন টহল ও অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে বঙ্গোপসাগরে টহলকালে পরিচালিত অভিযানে ১৪৫০ বস্তা সিমেন্ট, পাঁচটি ইঞ্জিন চালিত কাঠের ফিশিং বোট ও পাচারচক্রের ৫২ সদস্যকে আটক করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ টহলকার্যে নিয়োজিত থাকাকালীন গতকাল রাতে সেন্টমার্টিনের অদূরে সন্দেহজনক দু’টি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ফিশিং বোট দেখতে পায়। ফিশিং বোট দু’টির গতিবিধি সন্দেহজনক পরিলক্ষিত হওয়া নৌবাহিনী জাহাজ ফিশিং বোট দু’টিকে আটক করে। আটক হওয়া বোট ‘এফবি মা নুর জাহান’ এবং ‘এফবি হোমাইয়ারা’য় তল্লাশি করে ১৪৫০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়। এ সময় সিমেন্ট পাচারকারী দলের ২২ জন সদস্যকেও আটক করা হয়।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা জানায়, অধিক মুনাফা লাভের আশায় সিমেন্টগুলো মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল। এছাড়াও, আটক হওয়া মাঝিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, এফবি মা জননী-১, এফবি আশরাফুল ইসলাম সায়াদ এবং এফবি হাজি বসিরুল্লাহ নামক তিনটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের বোট মায়ানমার সিমেন্ট পাচারের সাথে জড়িত রয়েছে। নৌবাহিনীর টহলরত জাহাজ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পাচারচক্রের সাথে জড়িত অপর তিনটি ফিশিং বোট এবং ৩০ জন সদস্যকে আটক করে। অভিযানশেষে উদ্ধারকৃত সিমেন্ট ও আটক হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্র সীমানায় চোরাচালান, মানবপাচার, মাদক ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।



