মালিবাগে মালিকের বাসায় বিমানবন্দরের কর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু

‘আমার ভাই কোনোভাবেই আত্মহত্যার করতে পারে না। পরিকল্পিতভাবে তাকে কেউ হত্যা করেছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফাহিম আরাফাত
ফাহিম আরাফাত |সংগৃহীত

রাজধানীর শাহজাহাপুরের মালিবাগ এলাকায় একটি বাসা থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতের নাম ফাহিম আরাফাত (২৬)। তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুশরা কোম্পানি নামক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

নিহতের বাড়ি রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায়। বাবার নাম আব্দুল মান্নান।

নিহতের ভাই ফাহমিদ জানান, ‘আমার ভাই বিমানবন্দরে যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন ওই মালিকের বাসা থেকে বড় ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আমাদেরকে সকাল ১১টায় খবর দিলে আমরা গিয়ে দেখি সিআইডির ক্রাইমসিনের সদস্যরা ঝুলন্ত লাশ নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে রেখেছেন।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ভাই কোনোভাবেই আত্মহত্যার করতে পারে না। পরিকল্পিতভাবে তাকে কেউ হত্যা করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার ভাইয়ের জন্মদিন গেছে কাল। সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টায় এলাকার অনেকের সাথে মোবাইলে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তার মোবাইলে ফেসবুক আইডিতে অনেক পোস্ট আছে। হাস্যোজ্জ্বল ভাই কেন আত্মহত্যা করবেন?’

এর পেছনে কেউ জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ফাহমিদ আরো অভিযোগ করেন, তার ভাই দুটি আইফোন ব্যবহার করতেন। পুলিশ একটি ফোন দিয়েছে, আরেকটি ফোন পাওয়া যাচ্ছে না বলে পুলিশ জানিয়েছে; যা রহস্যজনক। ওই ফোনেই তার ফেসবুক আইডিসহ গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টে রয়েছে।

তিনি জানান, বুশরা কোম্পানির মালিক বৃহস্পতিবার বান্দরবান গেছেন। তার দেয়া তথ্যেই পুলিশ ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে আমাদের খবর দেন।

তিনি আরো জানান, তার ভাই মালিকের বাসায় সপ্তাহে দুয়েকদিন থাকতেন মালিকের পার্সোনাল কাজের জন্য। বাকি দিন বাবা-মায়ের সাথেই থাকতেন। তার ভাই এখনো বিয়ে করেননি। বিয়ের কথাবার্তা চলছে। এরই মধ্যে তার মৃত্যুর সংবাদের পুরো পরিবারের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সাথে তার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল।

এদিকে, পরিবারের একমাত্র উপার্জনের সদস্য ছিলেন ফাহিম। তার এই মৃত্যু রহস্যজনক বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।

এ বিষয়ে জানতে শাহজাহানপুর থানার এসআই সিয়াম কুমারের নম্বরে কল করা হলে তিনি কল ধরেননি।

নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।