কবুতর ও সমিতির আড়ালে কড়াইল বস্তিতে ভয়ঙ্কর মাদককারবারি : গডফাদারের স্ত্রীসহ গ্রেফতার ৩

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত মাদক গডফাদার ‘কবুতর মমিন’-এর কবুতরের দোকান, সমিতি ঘর, বিকাশের দোকান ও বসতঘরে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ৬১০ গ্রাম হেরোইন, ২৫৩ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশী মদ, ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪৩,০৬,১৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযান
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযান |নয়া দিগন্ত

রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে কবুতর পালন ও সমিতি ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা একটি ভয়ঙ্কর মাদক সাম্রাজ্যের সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের একটি বিশেষ দল বস্তিটিতে সাড়াশি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও নগদ ৪৩ লাখ টাকারও বেশি অর্থ জব্দ করেছে। এ সময় মূলহোতার স্ত্রীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, অধিদফতরের মহাপরিচালক মো: হাসান মারুফের দিকনির্দেশনা এবং ঢাকা মেট্রো কার্যালয় উত্তরের উপপরিচালক মো: রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচটি আলাদা টিম এ অভিযানে অংশ নেয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত মাদক গডফাদার ‘কবুতর মমিন’-এর কবুতরের দোকান, সমিতি ঘর, বিকাশের দোকান ও বসতঘরে একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ৬১০ গ্রাম হেরোইন, ২৫৩ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশী মদ, ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪৩,০৬,১৪০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এই অভিযানে মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন মো: রানা (৩৮), নুরুন্নাহার (৪০, গডফাদার কবুতর মমিনের স্ত্রী) এবং মো: আশরাদুল ইসলাম (২৮)। তবে অভিযানের সময় মূলহোতা মমিন পলাতক রয়েছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত নুরুন্নাহার জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে কবুতর ও সমিতি ব্যবসার আড়ালে সুকৌশলে মাদককারবারি পরিচালনা করে আসছিলেন এবং মাদকের বড় অঙ্কের অর্থ নিজস্ব বিকাশ চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন করতেন।

এ ঘটনায় অধিদফতরের গুলশান সার্কেলের পরিদর্শক মো: ইমদাদুল হক খাঁন বনানী থানায় সংশ্লিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এছাড়া একই অভিযানে মাদক সেবনের অপরাধে চারজন মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে মাদকের এই নেটওয়ার্ক ভাঙতে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।