২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতুতে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা টোল আদায়

সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় আরো জানান, মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা হয়ে যানবাহন চলাচল বাড়লেও নির্বিঘ্নে এবং স্বস্তিতেই যাত্রীসাধারণ সেতু পাড়ি দিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা হয়নি বলে তিনি জানান।

গোলাম মঞ্জুরে মাওলা অপু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

Location :

Louhajang
পদ্মা সেতু টোল প্লাজা
পদ্মা সেতু টোল প্লাজা |নয়া দিগন্ত

কখনো স্রোতস্বিনী আবার কখনো শান্ত পদ্মার বুক মাড়িয়ে চলতে থাকা যানবাহনগুলো থেকে দিন দিন বেড়েই চলেছে পদ্মা সেতুর টোল আয়। সেতু দিয়ে দূরপাল্লার যানবাহনগুলো চলাচল করছে নির্বিঘ্নে। দিন দিন অত্যাধুনিক ও নতুন করে যুক্ত হওয়া ক্যাশলেস ‘ডি’ টোল সুবিধাসহ সেতু কর্তৃপক্ষের আগেভাগেই ব্যাপক প্রস্তুতি ও সেতুর উভয় প্রান্তে মোট ১৯টি টোলবুথ সার্বক্ষণিক সচল থাকায় নির্বিঘ্নে এবং স্বস্তিতেই যাত্রীসাধারণ সেতু পাড়ি দিচ্ছেন। এতে করে গতকাল সোমবার (২৫ মে) পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ে সর্বোচ্চ চতুর্থ রেকর্ড গড়েছে।

মঙ্গলবার (২৬মে) সকাল ৯টায় সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় নয়া দিগন্তকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের টোল রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, সেতু চালুর পর থেকে গেলো বছরের ঈদুল আজহায় সেতুর টোল আদায়ে প্রথম রেকর্ড গড়ে । গেলো ঈদুল আজহায় ৫ জুন ছিলো সেতুর টোল আদায়ের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রথম রেকর্ড। ঈদের আগ মুহূর্তে এদিন (৫জুন) ২৪ ঘন্টায় পদ্মা সেতুতে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে গাড়ি পারাপারের সংখ্যা ছিলো ৫২ হাজার ৪৮৭টি। যা পদ্মা সেতুর ইতিহাসে সর্বোচ্চ যানবাহন পারাপার। এতে ওইদিন টোল রাজস্বে আয় হয়েছে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। যা পদ্মা সেতুর টোল আদায়ে এটি এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।

এর আগে, ২০২২ সালের ২৬ জুন সেতু চালু হওয়ার পর একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছিল ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল। ওইদিন মোট ৪৫ হাজার ২০৪টি যানবাহন থেকে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা টোল আদায় হয়েছিল। এটি এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড।

একই বছরের ১৪ জুন তৃতীয় সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড গড়ে। এদিন ৪৪ হাজার ৩৩টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা।

এরপর গতকাল সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘন্টায় মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে মোট ৪৪ হাজার ৮টি যানবাহন পারাপার করা হয়। এতে মোট টোল আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৩৫০ টাকা। এটি সেতুর চালুর পর থেকে টোল আদায়ে সর্বোচ্চ চতুর্থ রেকর্ড গড়ে।

অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ২৭ জুন সেতু দিয়ে ৪৩ হাজার ১৩৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল। এদিন টোল আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ৬০ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা। যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তালিকায় পঞ্চম রেকর্ড।

একইসাথে গেলো ঈদুল আজহার ৬ জুন ২৪ ঘন্টায় পদ্মা সেতুতে মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে পারাপারের গাড়ির সংখ্যা ছিলো ৪০হাজার ১১৮টি। এদিন টোল রাজস্বে আয় হয় ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ টাকা। যা পদ্মা সেতুর ইতিহাসে টোল আদায়ে সর্বোচ্চ ষষ্ঠ রেকর্ড গড়ে।

এদিকে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন উপলক্ষে ঈদের ছুটির শুরুতেই প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৩ জেলার ঘরমুখো মানুষ ছুটে চলেছেন নিজ গন্তব্যে। সোমবার থেকে টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় ঈদুল আজহার শেষ কর্মদিবসের পর থেকেই শুরু হয়েছে নাড়ির টানে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। এর ফলে ঈদের ছুটির শুরুতেই সোমবার সকাল থেকেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ঘরমুখো মানুষের গণপরিবহনের বাড়তি চাপ দেখা দেয়। কিছু সময় ব্যবধানে আবার টোলপ্লাজা পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল ছেড়ে আসা দক্ষিণবঙ্গগামী গণপরিবহনগুলো পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল বাড়লেও সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই টোলপ্লাজা অতিক্রম করছে এসব যানবাহন।

সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় আরো জানান, মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজা হয়ে যানবাহন চলাচল বাড়লেও নির্বিঘ্নে এবং স্বস্তিতেই যাত্রীসাধারণ সেতু পাড়ি দিচ্ছে। ইনশাআল্লাহ এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা হয়নি বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য,২০২২ সালের ২৫ জুন প্রমত্তা পদ্মা নদীর বুকে চালু হয় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দেশের বৃহত্তম পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পটি। প্রকল্পের সর্বশেষ প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ব্যয় সঙ্কোচননীতি অবলম্বন করে সর্বশেষ চূড়ান্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে। বাকি ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

ঋণ চুক্তি অনুযায়ী, এক শতাংশ সুদসহ ৩৫বছরে ঋণের টাকা ফেরত দেবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। ঋণ পরিশোধের শিডিউল অনুযায়ী প্রতি অর্থবছরে চারটি কিস্তি করে সর্বমোট ১৪০টি কিস্তিতে সুদ-আসল পরিশোধ করা হবে।

চুক্তি অনুযায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে সেতুটির ঋণ পরিশোধ শুরু হয়েছে এবং এ ঋণ পরিশোধের জন্য ২০৫৬-৫৭ অর্থবছর পর্যন্ত সময় পাবে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।