চুয়াডাঙ্গা ৫ ঘণ্টায় ১৬৭ মিলিমিটার বর্ষণ, প্লাবিত নিচু এলাকা

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
নয়া দিগন্ত

প্রবল বর্ষণে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরসহ আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাত্র ৫ ঘণ্টা ২০ মিনিটে ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ায় জেলার বেশির ভাগ নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং জনজীবনে নেমে এসেছে ভয়াবহ দুর্ভোগ।

স্থানীয় আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, শুক্রবার ভোররাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ জামিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোর থেকেই আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায় এবং শুরু হয় টানা মুষলধারে বৃষ্টি। অল্প সময়ের মধ্যে অতিভারী বৃষ্টিপাতে শহরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন মহল্লার অভ্যন্তরীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমিত সক্ষমতার কারণে দ্রুত পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষ। বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক কর্মসংস্থান ব্যাহত হওয়ায় তাদের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারের এক কাঁচামাল বিক্রেতা জানান, সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতা নেই। এমনকি আড়তের ভেতরেও পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাস্তায় গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া মানুষকে বাড়তি ভাড়া ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।

অন্যদিকে কৃষি খাতেও এর মিশ্র প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অতিবৃষ্টি আমন চাষের প্রস্তুতি ও পাট জাগ দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও নিচু এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কৃষকরা। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের ক্ষতি হতে পারে।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে।

এদিকে জেলা প্রশাসন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়ার এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে।