বোয়ালমারী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌরসভার লোকনাথ গ্রামের মরহুম মকসেদ মোল্লার ছেলে কৃষি উদ্যোক্তা হাবিবুর মোল্লার বাড়িতে মসলা জাতীয় ফল ‘আলু বোখারা’ চাষ হচ্ছে। এবং এরই মধ্যে তিনি তাতে সফলতা পাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (২১ জুন) লোকনাথ গ্রামে কৃষি উদ্যোক্তা হাবিবুর মোল্লার বাড়ির গিয়ে ৭টি আলু বোখারার গাছ দেখা যায়।
তিনি বলেন, ৩ বছর আগে স্থানীয় এক এনজিওর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২৫টি আলু বোখারার গাছ পাই। পরে বাড়ির পাশে কৃষি জমিতে এনজিওর দেয়া ২৫টি আলু বোখারার গাছ রোপণ করি। গাছ লাগলোর ১ বছর পর না বুঝে ১৮টি আলু বোখারার গাছ কেটে ফেলি। বর্তমানে বাগানে ৭টি গাছ আছে।
উদ্যোক্তা হাবিবুর মোল্লা আরো বলেন, লাগানোর দুই বছর পর থেকে মসলা জাতীয় আলু বোখারা গাছে প্রচুর পরিমাণ ফল আসে। তারপর থেকে বাজারে বিক্রি করতে শুরু করি ৩০০ টাকা কেজি দরে। যদি ফল সংরক্ষণ করে বিক্রি করা যায় তবে প্রতি কেজি ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা যায় স্থানীয় বাজারে।
জানা যায়, আলু বোখারা গাছে সাধারণত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ফুল আসে। জুন মাসে ফল পুরোপুরি পরিপক্ক হয়। কাঁচা অবস্থায় ফলের রং গাঢ় সবুজ থাকে। বড় হওয়ার সাথে সাথে তা উজ্জ্বল খয়েরি রং ধারণ করে। পরে লাল রং হয়ে যায়। পুরোপুরি পেকে গেলে ফল কুচকুচে কালো বা গাঢ় বেগুনি রং নেয়, যা দেখতে অনেকটা কালো জামের মতো এবং নরম ও রসালো।
তথ্যমতে, একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত আলু বোখারা পাওয়া সম্ভব। প্রতিটি ফলের ওজন সাধারণত ১০ থেকে ১২ গ্রাম। এর প্রায় ৯০ শতাংশই ভক্ষ্য অংশ। ফলের ভেতরের আঁটি খুবই ছোট।
লোকানাথ গ্রামের রবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় মসলা জাতীয় ফল আলু বোখারা নেই বললেন চলে। এটি বিরানির সাথে খেয়েছি। কোনো দিন দেখিনি। লোকনাথ গ্রামে হাবিবুর ভাইয়ের বাড়িতে আলু বোখারার গাছ আছে শুনে দেখতে এসেছি। নিজ হাতে পেড়ে খেলাম এবং ৩০০ টাকা কেজি দরে ৩ কেজি কিনে নিয়ে গেলাম আচারের জন্য।
বোয়ালমারী কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, আলু বোখারা মসলা জাতীয় ফল। ইরাক-ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় এবং ভারতের কিছু এলাকায় আলর বোখারা চাষ হয়। বর্তমানে আমাদের দেশেও আলু বোখারার চাষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে বোয়ালমারী পৌরসভার কৃষি উদ্যোক্তা হাবিবুর রহমানের বাড়িতেও আলুর বোখারার চাষ হচ্ছে।



