খুলনার পাইকগাছায় অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ-২০২৬ মৌসুমে সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১০টায় উপজেলা খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: একরামুল হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, কৃষকরা দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার হিসেবে কৃষকদের উন্নয়নে সার, বীজ, সেচসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি ও সহায়তা প্রদান করছে।
তিনি আরো বলেন, কোনো অসাধু সিন্ডিকেট বা মধ্যস্বত্বভোগী যাতে কৃষকদের হয়রানি করতে না পারে। সরকারি গুদামে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দালাল বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। প্রকৃত কৃষকরাই যেন এই সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা হবে। কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় আমরা সবসময় পাশে থাকবো বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
উপজেলা ফুড অফিসার মো: হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা এস এম আমিনুল ইসলাম, সহকারি অধ্যাপক আব্দুল মমিন সানা, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা বুলবুল আহমেদ, উপজেলা সেক্রেটারি আলতাফ হোসেন, পৌর জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মুহাদ্দিস স ম আব্দুল্লাহ আল মামুন, জামায়াত নেতা মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, প্রেসক্লাব পাইকগাছার সাধারণ সম্পাদক এম জালাল উদ্দীন, জামায়াত নেতা সফিয়ার রহমান, তামিম রায়হান, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা মো: আলমগীর হোসেন, জি এম শাহেদুজ্জামান বাবু সহ স্থানীয় কৃষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় সাংবাদিক।
সভায় জানানো হয় চলতি বোরো মৌসুমে সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি ধানের মূল্য ৩৬ টাকা এবং প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পারবেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: হাসিবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে পাইকগাছা উপজেলায় মোট ৬২৯ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যেই কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



