বেনাপোল বন্দরে উধাও হওয়া ১৯ প্যাকেট ভারতীয় পণ্য উদ্ধার

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদুল আজহার আগে প্যাকেটগুলো শেডের ভেতর থেকে গোপনে পাচারের উদ্দেশ্যে পুরোনো নিলামের মালামালের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে কঠোর নজরদারির কারণে তা বাইরে নেয়া সম্ভব হয়নি।

বেনাপোল (যশোর) সংবাদদাতা

Location :

Jashore
উধাও হওয়া ১৯ প্যাকেট ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ
উধাও হওয়া ১৯ প্যাকেট ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ |নয়া দিগন্ত

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে রহস্যজনকভাবে উধাও হওয়া ১৯ প্যাকেট ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শেডের ভেতর পুরোনো নিলামের মালামালের আড়াল থেকে এ পণ্যগুলো উদ্ধার করা হয়।

বন্দর ও কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১২ মার্চ মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে একটি পণ্যচালান আমদানি করা হয়। আমদানি নথিতে বেকিং পাউডার ঘোষণা দেয়া হলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় ১০৮টি প্যাকেটে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার, ফেসওয়াশ, ক্রিম ও লোশনসহ দামি প্রসাধনী সামগ্রী পাওয়া যায়। পরে এসব মালামাল জব্দ করা হয়। এরপর চালানটি বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে কাস্টমসের জিম্মায় রাখা হয়।

পরে গত ২ জুন পুনরায় ইনভেন্টরি করতে গিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা দেখতে পান, জিম্মায় থাকা ১০৮ প্যাকেটের মধ্যে ১৯টি প্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় একটি প্রতারণা মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু হয়।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ঈদুল আজহার আগে প্যাকেটগুলো শেডের ভেতর থেকে গোপনে পাচারের উদ্দেশ্যে পুরোনো নিলামের মালামালের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তবে কঠোর নজরদারির কারণে তা বাইরে নেয়া সম্ভব হয়নি।

সোমবার অন্য একটি পণ্যচালানের ইনভেন্টরি করতে গিয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা লুকিয়ে রাখা এ ১৯টি প্যাকেটের সন্ধান পান।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা এ চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান যশোরের সাফা ইমপেক্স এবং সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট ছিল বেনাপোলের মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে এ চালানে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য আমদানি করে প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছিল।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, উদ্ধার হওয়া ১৯টি প্যাকেট মূলত আগের জব্দ করা চালানেরই অংশ। এগুলো শেডের ভেতরে নিলাম পণ্যের নিচে চাপা পড়ে ছিল। এ ঘটনার পেছনে কারো বিরুদ্ধে অনিয়ম বা জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার তৌফিকুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলো পুনরায় গণনা ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। যাচাই শেষে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।