হাজার হাজার শোকার্ত মানুষের শ্রদ্ধা ভালবাসায় সিক্ত হয়ে চির বিদায় নিলেন সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ নেতা মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় সিলেটের কানাইঘাটে তার প্রতিষ্ঠিত জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের একমাত্র ছেলে নাজমুস সাকিব চৌধুরী।
জানাজায় কানাইঘাট-জকিগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার শোকাহত মানুষজন ছাড়াও সিলেট নগরীর শত শত মানুষ অনেক দূরের পথ মাড়িয়ে জানাজায় শরীক হোন। জানাজা শেষে নিজের প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা ক্যাম্পাসে তাকে দাফন করা হয়।
জানাজা-পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সংসদ সদস্য এ টি এম আজাহারুল ইসলাম, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের নেতা মুফতি মাওলানা আবুল হাসান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও মরহুমের জামাতা ডক্টর এনামুল হক চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা লোকমান আহমদ, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল্লাহ বাহার, কানাইঘাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি মামুন রশীদ, কানাইঘাট উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেশ কিছুদিন আগে তাকে সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া তিনি ৮০-৯০ দশকে দীর্ঘদিন সিলেট জেলা জামায়াতের আমিরের দায়িত্বও পালন করেছেন।



