জিয়া পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতির একটা বাতিঘর: তথ্যমন্ত্রী

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা

Location :

Gaurnadi

জিয়া পরিবার বাংলাদেশের রাজনীতির একটা বাতিঘর, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়ার নাম গণতন্ত্রের সংগ্রামের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বিশেষ করে ১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান এবং ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে তার নেতৃত্ব গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮৩ সালে তিনি সাতদলীয় জোটের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দি করা হয়। কিন্তু কোনো ভয়-ভীতি তাকে তার অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি। ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালের বিতর্কিত নির্বাচন বর্জন এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়ে তিনি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও জনগণের ভোটাধিকারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসেন। কথাগুলো বলছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম বাষির্কী উপলক্ষে রোববার রাত ৯টায় গৌরনদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে “গণতন্ত্র পুনরুদ্বারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত” শীর্ষক আলোচনা সভায় সভা প্রধান হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় প্রধান আলোচন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান, এম.পি। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক বাঁক। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ৮ দল, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৭ দল এবং বামপন্থী ৫ দলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তিন জোটের আন্দোলন স্বৈরশাসনের পতনের পথ তৈরি করে। ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সামরিক শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার সুযোগ পায়। ১৯৯০-এর গণআন্দোলন ছিল কোনো একক ব্যক্তির আন্দোলন নয়। ছাত্রসমাজ, শ্রমিক, পেশাজীবী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সংগ্রামেই স্বৈরাচারের পতন সম্ভব হয়েছিল। সেই সম্মিলিত আন্দোলনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া।

আইনমন্ত্রী আরো বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার ভূমিকা যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি তার সরকারের সময়কার রাজনৈতিক বিতর্ক ও বিরোধও ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। তাই তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার মূল্যায়নে অর্জনের পাশাপাশি বিতর্ক ও সীমাবদ্ধতাকেও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। আজকের প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্রের সংগ্রাম থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—গণতন্ত্র শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার নাম নয়। গণতন্ত্র মানে জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান, জবাবদিহি এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা।

আরো বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশর মানুষের মুক্তির দিশারী। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সামনে একটি নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে—একটি কার্যকর, অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পরও তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়ে আলোচনা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও তার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভূমিকার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে; গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করার মধ্য দিয়েই খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধার প্রকৃত প্রতিফলন ঘটতে হবে। বাংলাদেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ে তুলব, যেখানে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বরিশাল উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো: মিজানুর রহমান মুকুল, উপজেলা আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাত হান্নান, যুগ্ম আহবায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, গৌরনদী প্রেসক্লাবের সভাপতি জহুরুল ইসলাম জহির, পৌর আহবায়ক জাকির হোসেন শরীফ, সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপনসহ জেলা , উপজেলা পৌর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষ বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন উপজেলা আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব।