তেল সংকটে বদলে গেছে দৃশ্যপট, কৃষকদের দীর্ঘশ্বাসের লাইন

প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারি এবং ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ নীতির কারণে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় অনেকটাই কমে এসেছে।

মনিরুজ্জামান সুমন, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)

Location :

Chuadanga
জ্বালানি তেলের জন্য কৃষকের অপেক্ষা
জ্বালানি তেলের জন্য কৃষকের অপেক্ষা |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গার জ্বালানি সংকট নতুন এক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে। যেখানে কয়েকদিন আগেও মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড়ে পাম্প এলাকা ছিল অচলপ্রায়। সেখানে এখন দৃশ্যপট উল্টো। লাইনজুড়ে দাড়িয়ে আছেন কৃষকরা। পেট্রোলের চেয়ে ডিজেলের চাহিদাই যেন এখন সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে, আর সেই চাহিদার কেন্দ্রে রয়েছে বোরো মৌসুমের সেচনির্ভর কৃষিকাজ।

জেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারি এবং ‘নো কার্ড, নো ফুয়েল’ নীতির কারণে মোটরসাইকেল চালকদের ভিড় অনেকটাই কমে এসেছে। আগে যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাড়িয়েও তেল মিলত না, এখন অনেকেই পাম্পে আসার আগেই নিশ্চিত হয়ে নিচ্ছেন তেল পাওয়া যাবে কি না। ফলে বাইকারদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম হলেও, কৃষকদের ভিড় বেড়ে দাড়িয়েছে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে।

শহরের রেলবাজার এলাকার একাধিক পাম্পে দেখা গেছে, সীমিত সরবরাহের মধ্যেও ডিজেল নিতে কৃষকদের দীর্ঘ সারি। কারো হাতে জেরিক্যান, কেউবা ট্রলির পাশে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, ডিজেলের ঢমের লাম্বা সিরিয়াল। তাদের চোখে স্পষ্ট উদ্বেগ সেচ বন্ধ হলে মাঠের ফসল ঝুকিতে পড়বে।

চার বিঘা জমির চাষি মজিবর রহমানের কণ্ঠে সেই হতাশার কথা ৫০০ টাকার তেলে কি আর জমির সেচ হয়? তবুও লাইনে দাড়িয়ে যা পাই তাই নিয়ে ফিরতে হয়। জমির ফসল বাচানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় জনপ্রতি ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি তেল না দেয়ার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কিছুটা শিথিলতা থাকলেও বাস্তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলেই অভিযোগ তাদের। এর সাথে যোগ হয়েছে সরবরাহ ঘাটতি, যা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।

চুয়াডাঙ্গায় একদিকে তীব্র তাপদাহ, অন্যদিকে সেচ মৌসুম,এই দুইয়ের চাপে ডিজেলের চাহিদা এখন তুঙ্গে। অথচ সরবরাহ সীমিত থাকায় কৃষকদের সামনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সময়মতো সেচ দিতে না পারলে বোরো ধান উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রেলবাজারের একটি পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক বলেন, ‘গতকাল আমরা তিন হাজার লিটার পেট্রোল, দুই হাজার লিটার অকটেন ও সাড়ে চার হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছি। চাহিদার তুলনায় এটা খুবই কম। আগে বাইকারদের চাপ ছিল বেশি, এখন সেই জায়গা নিয়েছে কৃষকেরা। সবাইকে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

সব মিলিয়ে, চুয়াডাঙ্গার পাম্পগুলো এখন আর শুধু জ্বালানি নেয়ার জায়গা নয় এগুলো হয়ে উঠেছে কৃষকের দুশ্চিন্তা, অপেক্ষা আর সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। যেখানে প্রতিটি লিটার ডিজেল মানে শুধু জ্বালানি নয়, একটি ফসল বাচানোর লড়াই।