পদ্মা সেতুতে ৩ দিনে ১০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা টোল আদায়

জরুরি প্রয়োজনে বাড়তি মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড় ঠেকাতে মাওয়া প্রান্তে আরো অতিরিক্ত অস্থায়ী বুথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে

গোলাম মঞ্জুরে মাওলা অপু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

Location :

Munshiganj
পদ্মা সেতু টোল প্লাজা
পদ্মা সেতু টোল প্লাজা |ছবি : নয়া দিগন্ত

পবিত্র ঈদুল আজহায় সরকারি ছুটির আগভাগেই ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতু হয়ে যানবাহনের চলাচল বাড়লেও সেতুর টোলপ্লাজায় চাপ অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঈদ যতো ঘনিয়ে আসছে ততোই বাড়ছে যান পারাপারের সংখ্যা ও টোল আদায়ের পরিমাণ।

এতে করে গত ২১ মে থেকে ২৩ মে পর্যন্ত- মোট ৩ দিনে পদ্মা সেতুতে মোট যানবাহন পারাপার হয়েছে ৭৯ হাজার ২৯৭টি। এতে গত ৩ দিনে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসিসহ মোট টোল আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৩৭ লাখ ৫৭ হাজার ৮৫০ টাকা।

সেতু কর্তৃপক্ষের টোল রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২৩ মে) মধ্যরাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৫ হাজার ৯৯৯টি। এতে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসিসহ মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৩৫০ টাকা।

শুক্রবার (২২ মে) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৯ হাজার ১১১টি। এতে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসিসহ মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। আগের দিন বৃহস্পতিবার (২১ মে) ২৪ ঘণ্টায় মাওয়া ও জাজিরা উভয় প্রান্ত দিয়ে মোট যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৪ হাজার ১৮৭টি। এতে ক্যাশ, ক্রেডিট ও ইটিসিসহ মোট টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকা।

পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গেলো ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহনগুলো দ্রুত পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে চলার নির্দেশনা দিয়েছিলো সেতু বিভাগ। আর এতে করে এক্সপ্রেসওয়েতে যানজট না হওয়ার পাশাপাশি কোনো যানবাহনকে আটকে থাকতে হচ্ছে না। তা ছাড়া ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে একটি করে ইটিসি লেনসহ মাওয়া প্রান্তে মূল ৭টি বুথ ও ৩টি মোটরসাইকেল বুথসহ মোট ১০টি এবং জাজিরা প্রান্তে মূল ৭টি বুথ ও ২টি মোটরসাইকেল বুথসহ মোট ৯টি অর্থাৎ উভয় প্রান্ত মিলিয়ে সর্বমোট ১৯টি টোল বুথের মাধ্যমে টোল আদায় কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পরিচালিত হচ্ছে।

একইসাথে জরুরি প্রয়োজনে বাড়তি মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড় ঠেকাতে মাওয়া প্রান্তে আরো অতিরিক্ত অস্থায়ী বুথের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদে সবগুলো বুথ সচল রাখতে অতিরিক্ত টোল কালেক্টর নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি টোলপ্লাজায় চালক ও যাত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদানের সুবিধার্থে আইটিএসের আওতায় ভ্যারিয়েবল ম্যাসেজ সাইন সুবিধা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়াও যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রেকার, ফায়ার ভেহিক্যাল ও অন্যান্য জরুরি সেবা যান প্রস্তুত রাখা, ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা জোরদার করা এবং একজন প্রশিক্ষিত আইটিএস এক্সপার্ট সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে যেকোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধানে সার্বক্ষণিক মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে যাত্রী ওঠানামা ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা আরো সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে উভয় টোল প্লাজায় রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার নয়া দিগন্তকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয় জানান, এখন পর্যন্ত ঘরমুখো মানুষের যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আজ রাতের পর থেকে ঘরমুখো যানবাহনের চাপ বেড়ে যেতে পারে। আর তাই এসব বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দিতে পদ্মা সেতুতে ইটিসি সুবিধাসহ দুই প্রান্তে সবমিলিয়ে মোট ১৯টি টোল বুথ সার্বক্ষণিক সচল রাখা হয়েছে। একইসাথে মাওয়া প্রান্তের সবকটি টোলবুথ চালু রয়েছে বলেও তিনি জানান।

হাঁসাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন-আল-রশীদ রোববার বিকেলে নয়া দিগন্তকে জানান, এক্সপ্রেসওয়েতে যান চলাচল বাড়লেও কোথাও কোনো যানজট নেই। ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও পশুবাহী ট্রাকগুলো ঢাকায় প্রবেশ নিশ্চিত করাসহ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে বেপরোয়া গতি ও ওভারটেকিং বন্ধে বিভিন্ন পয়েন্টে জেলা পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর একাধিক বিভাগের সাথে সমন্বয় করে হাইওয়ে পুলিশের ৭টি ইউনিট কাজ করে চলেছে।