কাউখালী (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা
অতিরিক্ত ইটবোঝাই ট্রাকের ভারে বেইলি ব্রিজ বিধ্বস্ত হয়ে কাউখালী থেকে চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটির সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টার কিছু পর সড়কের সাহেবনগর এলাকায় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চি করে বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। ট্রাকটি সরিয়ে নেয়ার পর দ্রুততার সাথে ব্রিজের পাটাতন ঠিক করে সড়ক যোগাযোগ পুনঃ স্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
জানা যায়, কাউখালী উপজেলা সদর থেকে রাঙ্গামাটি জেলা সদর ও চট্টগ্রামের সাথে একমাত্র সড়ক যোগাযোগ স্থাপনকারী কাউখালী-রাণীরহাট সড়ক। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক থেকে কাউখালী উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার এ সড়কের চারটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ রয়েছে। দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ এসব বেইলি ব্রিজ অকেজো হলেও জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে সড়ক যোগাযোগ চলমান রয়েছে।
এ সড়কের চারটি বেইলি ব্রিজের মধ্যে দুটিতে কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হলেও তা চলছে মন্থর গতিতে। শনিবার সকালে সাহেবনগর এলাকা থেকে অতিরিক্ত ইটবোঝাই একটি ট্রাক বেইলি ব্রিজটি অতিক্রম করার সময় ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাকসহ ধসে পড়ে। এতে বন্ধ হয়ে যায় সড়ক যোগাযোগ।
কাউখালী উপজেলাসহ রাঙ্গুনীয়া উপজেলার একটি এলাকার লোকজন এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। উপরন্তু কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কোনো রোগী রাঙ্গামাটি বা চট্টগ্রাম আনা-নেয়ার একমাত্র সড়ক এটি। ফলে ব্রিজের পাটাতন ভেঙ্গে ট্রাক আটকে যাওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শত শত যানবাহন দু’পাশে আটকে পড়ে। এতে মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে সড়কে চলাচল করা যাত্রীরা।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৩-৫ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার এসব বেইলি ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন ৩০-৩৫ মেট্রিক টন গাছ, বাঁশ ও ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়ই এ জাতীয় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।



