রাতে অবৈধ ডাম্প ট্রাকের দৌরাত্ম্য

ঈদগাঁওতে ঈদের ছুটিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে কাঠ পাচারকারীরা

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বনজ কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট। উপজেলার বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করে প্রতি রাতে দেদার পাচার হচ্ছে মূল্যবান গাছ।

আতিকুর রহমান মানিক, ঈদগাঁও (কক্সবাজার)

Location :

Eidgaon
ঈদগাঁওতে রাতে অবৈধ ডাম্প ট্রাকের দৌরাত্ম্য
ঈদগাঁওতে রাতে অবৈধ ডাম্প ট্রাকের দৌরাত্ম্য |নয়া দিগন্ত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কক্সবাজারের ঈদগাঁওতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বনজ কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট। উপজেলার বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় করে প্রতি রাতে দেদার পাচার হচ্ছে মূল্যবান গাছ। আর এই অবৈধ কাঠ পরিবহনের মূল হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে লাইসেন্স, কাগজপত্র ও ফিটনেসবিহীন মিনি ডাম্প ট্রাক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সীমিত জনবল নিয়ে কাঠচোরদের সাথে পেরে না ওঠায় চলছে এই বন নিধনযজ্ঞ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের আলোয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথেই পাল্টে যায় পুরো চিত্র। ঈদগাঁও বাজারের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সংযোগ সড়কে শুরু হয় অবৈধ কাঠবোঝাই ডাম্পার গাড়ির বেপরোয়া চলাচল। সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে কেটে আনা স্তূপীকৃত কাঠ ও গোলগাছ রাতারাতি ডাম্পারে তুলে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে। তীব্র গতিতে ছুটে চলা এসব অবৈধ গাড়ির কারণে সাধারণ পথচারী ও বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সংরক্ষিত বন কেটে পাচারকৃত এসব গাছ ঈদগাঁও বাজারের উত্তরাংশে বাঁশঘাটায় স্থাপিত বিভিন্ন স মিলে (করাতকল) মজুদ করতে দেখা গেছে। বাঁশঘাটা সেতুর দক্ষিণ-পূর্ব দিকে স্থাপিত ডজনখানেক স মিলে এসব গাছ মজুদ করে চিরাই ও সরবরাহ করা হচ্ছে।

নির্বিচারে বন ধ্বংস ও অবৈধ গাড়ি চলাচলের সুবাদে অসাধু করাতকল মালিকরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। এতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল। তাদের মতে, এখনই এই সিন্ডিকেটকে রুখতে না পারলে ঈদগাঁওর সংরক্ষিত বনাঞ্চল অচিরেই মরুভূমিতে পরিণত হবে।

২৫ মে (সোমবার) সন্ধ্যায় ঈদগাঁও হাই স্কুল সংলগ্ন ডিসি রোড এবং জাগির পাড়া সড়ক থেকে তোলা স্থিরচিত্রে দেখা যায়, কোনো প্রকার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যেই কাঠ বোঝাই করে ছুটছে এসব ডাম্পার। কোরবানির ঈদের এই সময়টাতে যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পশুর হাট ও অন্যান্য নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে কোটি টাকার সরকারি সম্পদ লোপাট করছে এই চক্র।

কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন ঈদগাঁও রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসাইন বলেন, এরিয়া অনুপাতে জনবল কম থাকা ও ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার না থাকায় অভিযান পরিচালনা করা সব সময় সম্ভব হয় না।

ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মংচিনু মার্মা বলেন, অবৈধ করাতকল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।