গাজীপুরের কালীগঞ্জে শ্বশুর মজিদ মোড়লকে (৭০) কুপিয়ে হত্যার এক দিন পর থানায় আত্মসমর্পণ করেছেন নিহতের মেয়ের স্বামী মোজাম্মেল হক ওরফে মুজা সরকার।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
মোজাম্মেল উপজেলার জামালপুর মধ্যপাড়া এলাকার মরহুম নোয়াব আলী সরকারের ছেলে।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মজিদের মেয়ে শাহানারার সাথে ১৭ বছর আগে বিয়ে হয় মোজাম্মেলের। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই মোজাম্মেল তার স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন ও শ্বশুরবাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতেন।
যৌতুকের টাকা না পেয়ে ধারালো কুড়াল দিয়ে শ্বশুর মজিদের মাথায় আঘাত করে মোজাম্মেল। এতে মজিদ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যার ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহতের ছেলে মো: লিটন মোড়ল মোজাম্মেলকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। শনিবার সকালে মোজাম্মেল থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: জাকির হোসেন মোজাম্মেলের আত্মসমর্পণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাতেই আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
উল্লেখ, শুক্রবার কলা নিয়ে উপজেলার জামালপুর বাসাইর বাজারে যাওয়ার সময় ভাঙারিপট্টি গলিতে ইলিয়াসের দোকানের সামনে শ্বশুর মজিদকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই মেয়ের স্বামী মোজাম্মেল। নিহত মজিদ জামালপুর এলাকার মধ্যপাড়ার মরহুম আলকু মোড়লের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কলা ব্যবসায়ী ছিলেন।



