ভোলায় সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে কৃষকরা

‘বাজার দর ভালো থাকলে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করেন। বারোমাস এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার সুবিধা থাকায় আর্থিকভাবেও সচ্ছল থাকা যায়।’

Location :

Bhola
সর্জন পদ্ধতিতে চাষ করছেন কৃষক
সর্জন পদ্ধতিতে চাষ করছেন কৃষক |নয়া দিগন্ত

কামরুজ্জামান, চরফ্যাশন (ভোলা)

ভোলার চরফ্যাশনে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সর্জন পদ্ধতিতে সবজির চাষাবাদ। এই পদ্ধতিতে বারো মাস চাষাবাদ হওয়ায় কৃষকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে নিচু জমিতে এই চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চরফ্যাশন উপজেলার হাজারিগঞ্জ, চরমাদ্রাজ, আসলামপূর, জাহানপূর, আবদুল্লাহপূর, আবুবকরপূর এই ইউনিয়নগুলোর প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে ফসল চাষাবাদ হয়েছে।

হাজারিগঞ্জ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে গড়ে উঠেছে সর্জন পদ্ধতিতে সবজি চাষ। কৃষকরা ব্যস্ত সবজি খামারের পরিচর্যার কাজে। ফলে কৃষকদের কাছে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদের আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষক মোহাম্মদ আব্বাস (২৭) বলেন, ‘বাবা কৃষি কাজ করতেন। তবে তখন বছরে দুইবারই চাষাবাদের সুযোগ ছিল। তাতে লোকসানও গুনতে হতো। পরে মোহাম্মদ আব্বাস ও আইয়ুব আলী দুই ভাই মিলে আড়াই কানি (চার শতক) জমিতে সার্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন। এ বছর প্রায় পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে আড়াই কানি জমিতে লাউ, করলা ও শসা চাষ করছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘বাজার দর ভালো থাকলে তিন থেকে চার লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করেন। বারোমাস এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার সুবিধা থাকায় আর্থিকভাবেও সচ্ছল থাকা যায়।’

এছাড়া তাদের দুই ভাইয়ের এমন উদ্যোগের কারণে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে অনেক খেটে খাওয়া মানুষের।

সারাবছর নিয়মিত দুইজন শ্রমিক থাকলেও ফসলের ভরা মৌসুমে দৈনিক ভিত্তিতে ১০ থেকে ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন।

খামারে কাজ করা শ্রমিক মোহাম্মদ জাহিদ বলেন, সারাবছর তিনি ফসলের পরিচর্যা করেন। খামারে ফসলের কারণেই গড়ে উঠেছে তার কর্মসংস্থান। এতে তার পরিবার মোটামুটি ভালো জীবনযাপন করছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জনাব নাজমূল হুদা জানান, ‘চরফ্যাশন উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় সাতটি ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণে সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়। সর্জন পদ্ধতিতে সারা বছরে প্রায় পাঁচবার ফসল ফলানো যায় এবং বর্ষায় বাজার মূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা অর্থিকভাবে লাভবানও হয়।’