দিনাজপুরে তীব্র গরমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। তার সাথে তীব্র লোডশেডিংয়ে দিশেহারা অবস্থা সাধারণ মানুষের।
রোববার (৩০ আগস্ট) সহ কয়েক দিন ধরে অব্যাহত তীব্র গরম ও প্রখর রোদে হাঁসফাঁস করছেন সব বয়সের মানুষ। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও দিনমজুররা।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় লোকসমাগম কমে যাচ্ছে। প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। প্রখর দাবদাহের পাশাপাশি ঘন ঘন লোডশেডিং দুর্ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। তীব্র গরমে হাসপাতালগুলোতে বৃদ্ধি পাচ্ছে ডায়রিয়া ও তীব্র জ্বরসহ গরমজনিত রোগীর সংখ্যা, যার মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধই বেশি। এমন পরিস্থিতিতে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়া এবং প্রচুর পানি ও তালের শাঁস বা স্যালাইন জাতীয় তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্থানীয় চিকিৎসকেরা।
আবহাওয়া অফিস জানায়, রোববার দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৮.৫° সেলসিয়াস এবং দুপুর ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নির্ণয় করা হয়েছে ৩৫.৫° সেলসিয়াস।
বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
এই গরমের মধ্যে দিনাজপুর জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দৈনিক চার থেকে পাঁচবার, এমনকি কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও ব্যবসা-বাণিজ্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু কিছু এলাকায় দিনে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না।
বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম।
নেসকো-১ ও ২: যেখানে প্রতিদিনের চাহিদা ৫০ মেগাওয়াট, সেখানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মেগাওয়াট।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (৫টি উপজেলা): ১২০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াট।



