চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় নিখোঁজের একদিন পর মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে রাজশাহী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রাজশাহীর দু’টি পৃথক এলাকা থেকে দুই যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীকে নিয়ে পুলিশের একটি দল দর্শনা থানায় ফিরেছে। আটক দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীর নাম নাইম উদ্দিন (১৪)। সে দর্শনা থানার প্রতাপপুর দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ও মদনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আটকরা হলেন রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার আলীগঞ্জ এলাকার মো: রুবেল (৩৭) ও রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার এলাকার মো: সুমন (৩৫)।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সকাল ১১টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাড়ির সামনে পাকা রাস্তায় খেলতে বের হয় নাইম। এরপর দুপুর গড়িয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে ও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময় খোজাখুজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে ওইদিনই নাইমের বাবা দর্শনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, পরদিন রোববার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে নাইমের কাছে থাকা মোবাইল নম্বর থেকে তার বড় ভাই মাসুদের মোবাইল নম্বরে কয়েকটি ছবি পাঠানো হয়। ওই ছবিতে নাইমের মুখ টেপ দিয়ে মোড়ানো ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। এরপর অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা নাইমকে ছেড়ে দেয়ার বিনিময়ে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করা না হলে নাইমকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত দর্শনা থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে থানায় এজাহার করা হলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিয়মিত মামলা করে। একইসাথে নাইমকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশের একটি দল।
দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গত শনিবার প্রতাপপুর এলাকার নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাইম নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তার বাবা থানায় একটি জিডি করেন। পরদিন সকালে ভিকটিমের কাছে থাকা মোবাইল নম্বর থেকে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে মুক্তিপণের দাবি করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এসে এ ঘটনায় এজাহার করা হলে তাৎক্ষণিক নিয়মিত মামলা করে ভিকটিম উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হয়।’
ওসি আরো বলেন, ‘মামলার পর দর্শনা থানা থেকে পুলিশের একটি দল রাজশাহীতে যায়। সেখানে রাজশাহী র্যাবের সহায়তায় ভুক্তভোগী নাইমকে উদ্ধার করা হয়। একই সাথে রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানার আলীগঞ্জ এলাকার রুবেল ও জেলার গোদাগাড়ী থানার এলাকার সুমন নামে দুইজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তাদের দর্শনা থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’



