লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত দিয়ে ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার (পুশইন) চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বিএসএফ। বিজিবির কড়া অবস্থান ও সার্বক্ষণিক নজরদারির মুখে হাতীবান্ধা ও আদিতমারী সীমান্তে অবস্থান করা ব্যক্তিদের শুক্রবার রাতে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আদিতমারীর দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ব্যক্তিদের সার্চলাইট বন্ধ করে ভারতের দিকে সরিয়ে নেয়া হয়। একই সময়ে হাতীবান্ধার বড়খাতা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ বুড়ারডুবী সীমান্তের ৮৮৬ নম্বর মেইন পিলার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করা ১১ জনকেও বিএসএফ ভারতীয় অভ্যন্তরে নিয়ে যায়।
এর আগে শুক্রবার ভোর থেকে লালমনিরহাট জেলার তিনটি সীমান্ত পয়েন্টে মোট ৩৩ ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করে বিজিবি। এর মধ্যে তিস্তা ব্যাটালিয়নের বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় ১২ জন ছিলেন।
বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্তে অবস্থান নিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে এসব ব্যক্তি দিনভর শূন্যরেখা ও ভারতীয় অংশে অবস্থান করলেও বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।
তবে রাত পর্যন্ত পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে কয়েকজন ব্যক্তি শূন্যরেখা সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, হাতীবান্ধা ও আদিতমারী সীমান্তে অবস্থান করা ব্যক্তিদের ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে।
রংপুর সেক্টর সদর দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৈধ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকা এবং ফেন্সিং গেট ব্যবহার করে বাংলাদেশে লোকজন প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থী।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।



