ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ১৪ মামলার এক আসামিসহ ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র, ডাকাতির সরঞ্জাম এবং একটি মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার (২০ জুন) রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা কোকিল টেক্সটাইলের সামনে অভিযান চালিয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় একদল ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হয়েছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে আশপাশের এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ডাকাত দলের আরও ৮ থেকে ১০ জন সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতাররা হলেন— কসবা উপজেলার আদ্রা গ্রামের রাশেক মিয়া, নবীনগর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, সদর উপজেলার মেড্ডা (তিতাসপাড়া) এলাকার রফিকুল ইসলাম এবং নবীনগর উপজেলার আলিয়াবাদ গ্রামের কামাল মিয়া।
অভিযানে গ্রেফতারদের কাছ থেকে দুটি রামদা, একটি পেরেক লাগানো গদা, একটি সাইকেলের প্যাডেলযুক্ত কুড়াল, ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-২৫৫৬ নম্বরের একটি সাদা রঙের নোয়া মডেলের মাইক্রোবাস, নগদ ৩ হাজার ৩০০ টাকা, একটি হেলমেট, একটি মাংকি টুপি, একটি স্টিলের টর্চলাইট, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, নয়টি বাটন ফোন, একটি মোটা রশির বান্ডেল এবং হ্যান্ডকাফের একটি চাবি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, গ্রেফতার রাশেক মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইন ও চুরিসহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। এছাড়া জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে তিনটি ডাকাতি মামলা এবং রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আজহারুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক ডাকাত দলের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



