বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইলের পশ্চিম তাবালেরচর এলাকার ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ ও দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
পরিদর্শনের সময় তিনি বলেন, ‘দলীয় পরিচয় যাই থাকুক, সংশ্লিষ্টরা কুতুবদিয়ার মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন। বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করুন।’
পাশাপাশি মানসম্মতভাবে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (২৮ জুন) বিকালে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র প্রত্যক্ষকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘কুতুবদিয়ার মানুষ বছরের পর বছর ধরে সাগরের ভাঙন ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে এই দুর্ভোগ অনেক আগেই দূর করা সম্ভব ছিল। কিন্তু অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে সেই প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে কুতুবদিয়ার জন্য একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ অনুমোদন করানো হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন সরকার সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিম্নমানের বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে বরাদ্দের অর্থ লুটপাট করেছে। ফলে আজও কুতুবদিয়ার মানুষ একই দুর্ভোগের শিকার। দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য উন্নয়নের নামে মেগা প্রকল্প গ্রহণ করলেও বাস্তবে মেগা লুটপাটই হয়েছে। ফলে কুতুবদিয়ার স্বাভাবিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং দ্বীপবাসী বারবার অবহেলার শিকার হয়েছে।’
তিনি জানান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সাথে বৈঠক করে এবং লিখিতভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করে বর্ষা মৌসুমের আগে জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান নির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রভাব খাটিয়ে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কাজ ভাগ করে দিয়েছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুতুবদিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরী, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল আমিন, আলী আকবর ডেইল ইউনিয়ন সভাপতি আবু সাদেক, ইউনিয়ন সেক্রেটারি রুস্তম হায়দারসহ উপজেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।



