যশোরে ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ, অমৌসুমে ৩ গুণ ফলন

বাগানে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা ও শেষ রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় এই কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থাকে। শীতের আমেজেও গাছগুলো ফুল দিতে শুরু করে।

রাশেদুর রহমান রাশু, বেনাপোল (যশোর)

Location :

Jashore
‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ
‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ |নয়া দিগন্ত

যশোরের শার্শার বেনাপোলে এক কৃত্রিম আলোয় চাষ হচ্ছে ড্রাগন। ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে কৃষকের ফিরেছে নতুন দিগন্ত। এ উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন মাঠে আধুনিক ইনডোর লাইটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অমৌসুমে ড্রাগন চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। বাড়ছে কর্মসংস্থান। শীতের সময়ে বাড়ে কুয়াশা। অনেক সময় দিনভর থাকে অন্ধকার। এ সময়ে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে ড্রাগনের ফলন বাড়িয়েছেন প্রায় তিন গুণ।

উদ্ভাবনী উদ্যোগ শার্শার কৃষি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। ১০ বিঘা জমিতে ৭০ লাখ টাকা খরচে বছরে ৪০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা যায়। প্রতি মাসে খরচ হয় এক থেকে দেড় লাখ টাকা। ১০ বছর ধরে হারবেস্ট করা যায় ড্রাগনের। তাইতো সফলতা পাচ্ছেন চাষীরা। লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে চাষে। কৃত্রিম আলোক রশ্মিতে ড্রাগন গাছে ফুল ধরতে সহায়ক হচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে চোখ ধাঁধানো এক নান্দনিক দৃশ্য।

বাগানে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা ও শেষ রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় এই কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থাকে। শীতের আমেজেও গাছগুলো ফুল দিতে শুরু করে। আলোকসজ্জায় সজ্জিত এই ড্রাগন বাগান এখন শুধু কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রই নয়, দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে। সারিবদ্ধ ড্রাগন গাছ আর মাথার ওপরে এলইডির আলোর ঝলকানি মাঠজুড়ে তৈরি করে এক নান্দনিক দৃশ্য।

অনেক দর্শনার্থীর মতে, এই দৃশ্য ইউরোপের উন্নত শহর কিংবা বিদেশের উন্নত কৃষি খামারে মতো। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থী।

কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমাদের বেনাপোল সরবাঙহুদা এলাকায় লতা সাহেব নামে একজন ব্যবসায়ী ১২ বিঘা জমিতে লাইটিং করে ড্রাগন চাষ করছেন। গরমের ফল হলেও শীতের সময় গাছে ফলন আনতেই লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছেন। অসময়ে ফলন ও ভালো হচ্ছে। প্রতিদিন এ বাগান থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ড্রাগন ফল পাওয়া যায়।’

তিনি জানান, প্রতিদিন মহেশপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ থেকে ব্যাপারীরা বেনাপোলের এই ড্রাগন নিতে আসেন। এ বাগান থেকে ব্যাপারীরা প্রতি কেজি ড্রাগন ৩০০ টাকা দরে কিনে নিয়ে যান। বর্তমান সময়ে তিনি প্রতিদিন এ বাগান থেকে ৭৫ হাজার টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি করছেন। মৌসুম আসলে এর দ্বিগুণ টাকার বিক্রি হবে।

ড্রাগন চাষী আবেদুর রহমান জানান, লাইটিং বা কৃত্রিম আলোর ড্রাগন চাষে ভরা মৌসুমে যে দাম পাওয়া যায়, অমৌসুমে ফলন ধরাতে পারলে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভে বিক্রি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘লতা সাহেব আমার মামা হন। তিনি এই ১২ বিঘা জমিতে লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছেন। আমি সেটার দেখাশোনা করি। এ বাগান করতে মোট ৭০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অমৌসুমে লাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা এ বাগান থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ড্রাগন ফল পাচ্ছি। যার বাজার মূল্য ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। মৌসুম আসলে অর্থাৎ গরম আসলে এর ফলন আরো দ্বিগুণ বেড়ে যাবে, তখন অনেক টাকার ফল প্রতিদিন বিক্রি হবে। নানান প্রতিকূলতা কাটিয়ে এখন আমরা সফলতার মুখ দেখছি। এই এলাকার অনেকেই এই পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করার কথা বলে থাকি। আমাদের বাগান ছাড়াও এ উপজেলার আরো অনেক জায়গায় এই পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে।’

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। অমৌসুমে উৎপাদিত ড্রাগনের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক এলাকায় লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করতে দেখা যাচ্ছে। লাইটিং পদ্ধতিতে অর্থাৎ অমৌসুমে উৎপাদিত ফলগুলোর দাম সাধারণত বেশি থাকে, এজন্য কৃষকেরা বর্তমানে ড্রাগন চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।’