পাহাড়ি ঢলে দোয়ারাবাজারে বাড়ছে পানি, পুকুর তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় মাছ চাষিরা

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নেট দিয়েও শেষ রক্ষা হবে না। গত বছরের বন্যায় অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এবার ধার-দেনা করে মাছ চাষ করেছি। এবারো যদি একই অবস্থা হয় তাহলে বাঁচা-মরা এক হয়ে যাবে।

সোহেল মিয়া, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ)

Location :

Dowarabazar
তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক
তলিয়ে গেছে গ্রামীণ সড়ক |নয়া দিগন্ত

এক সপ্তাহের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নদী-নালা ও খাল-বিলে আশঙ্কাজনক হারে পানি বাড়ছে। বিশেষ করে উপজেলার সীমান্তবর্তী নদী চেলা, খাসিয়ামারা, কালিউরি, মৌলা ও চিলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল, তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা ও সবজির ক্ষেত। বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন মাছ চাষিরা। পানি বৃদ্ধি পাওয়াতে আগাম বন্যার আশঙ্কায় মাছ রক্ষায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার কয়েক হাজার মাছ চাষি। বন্যার পানিতে পুকুরের মাছ ভেসে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে মাছ চাষের পুকুরের চারপাশে জাল এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে মাছ রক্ষায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

সরেজমিনে উপজেলার সুরমা ও দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানিতে তলিয়ে গেছে যোগাযোগের বেশ কয়েকটি গ্রামীণ সড়ক। সড়কগুলোতে পানি থৈ থৈ করছে। ফলে মাছ চাষের পুকুর পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় নিদ্রাহীন সময় কাটাচ্ছেন উপজেলার মাছ চাষিরা।

উপজেলা মৎস্য অফিসের দেয়া তথ্যমতে, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ব্যক্তিমালিকানাধীন তিন হাজার সাত শ’ পুকুরে মাছ চাষ করা হয়েছে। চাষকৃত মাছ বিক্রি করে বছরে উপার্জন করা হয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা। তবে কয়েক দিনের টানা বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে পাঁচটি ইউনিয়ন— সুরমা, বোগলা, লক্ষীপুর, দোহালিয়া ও দোয়ারাবাজার ইউনিয়নে মাছ চাষের পুকুর যেকোনো সময় তলিয়ে যেতে পারে। ফলে কয়েক কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে যেতে পারে।

ঝুকিপূর্ণ এসব পুকুর ও বাণিজ্যিক মৎস্য খামার সুরক্ষায় চাষিরা বাজার থেকে জাল, বাঁশ ও সুতা কিনে পুকুরের পাড় উঁচু করে বেড়া দিচ্ছেন। কেউ আবার বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেতে বড় মাছগুলো ধরে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। চাষিদের শঙ্কা, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে যেকোনো মুহূর্তে পুকুর তলিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।

দোয়ারাবাজার ইউনিয়নের মাছ চাষি আব্দুল খালেক বলেন, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে পুকুরের চারপাশে পানি এখন ডুবু ডুবু অবস্থায়। তাই জাল কিনে পুরো পুকুর ঘেরাও করছি, যেন পানি বাড়লেও মাছ বের হতে না পারে।

একই এলাকার খামারি হুমায়ুন কবির বলেন, পাহাড়ি ঢলের পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে আমরা আতঙ্কে আছি। নিয়মিত পুকুর পাহারা দিচ্ছি। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নেট দিয়েও শেষ রক্ষা হবে না। গত বছরের বন্যায় অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। এবার ধার-দেনা করে মাছ চাষ করেছি। এবারো যদি একই অবস্থা হয় তাহলে বাঁচা-মরা এক হয়ে যাবে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরেফিন মাহমুদ নয়া দিগন্তকে বলেন, পানিতে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি এলাকার মাছের পুকুর তলিয়ে যাওয়ার তথ্য এসেছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে চাষিদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। পুকুরপাড়ে শক্ত জাল বা বানা দেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। বিক্রির উপযোগী মাছগুলো ধরে বাজারে বিক্রি করে দেয়ার জন্যও বলা হয়েছে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় অন্যান্য পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতসহ জরুরি যোগাযোগের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। নৌকার মাঝিদের তালিকাসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারদের সমন্বয়ে একটি মেডিক্যাল টিমও গঠন করা হয়েছে।