নরসিংদী ও গাজীপুর জেলার বাণিজ্যিক ব্যস্ততম সড়ক শিবপুর ইটাখোলা-গাজীপুর আজমতপুর সড়ক। এই সড়ক দিয়ে সাধারণ যানবাহন চলাচলের পাশাপাশি বাণিজ্যিক শিল্প কারখানা কিংবা প্রতিষ্ঠানের মালামাল বহনকারী ট্রাক, লরি, পিকআপভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্য গাড়িও চলাচল করে থাকে। কিন্তু সড়কের শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়ন ও পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের চর পিতাম্বরদী গ্রামের সংযোগ হাঁড়িধোয়া নদীর উপর নির্মিত সেতুটি বর্তমানে খানাখন্দে ভরে গিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা নিয়ে হাজার হাজার যানবাহন, চালক ও যাত্রী যাতায়াত করছেন। বৃষ্টি হলে সেতুতে পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও নেই। পানি জমে থাকায় সেতুতে খানা খন্দের গর্তে যানবাহন পড়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বিভাটেক, প্রাইভেটকার গর্তের কারণে আটকে যাওয়ায় চলাচল করতেই পারছে না। এতে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন চালক ও যাত্রীরা। ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে যানবাহনের। বিশেষ করে রাতে যানবাহন চলাচল করতেই পারছে না। অন্ধকারে বড় বড় গর্তে পড়ে যায় সিএনজি অটোরিকশা, বিভাটেকসহ নানা পরিবহন।
দীর্ঘদিন সেতুর এই বেহাল অবস্থা বিরাজ করার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় যাত্রী, চালক ও জনসাধারণের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক রমজান মিয়া বলেন, ‘সেতুর কাজ নিম্ন মানের হওয়ার কারণে সেতু থেকে পাকা ঢালাই উঠে যাচ্ছে। বর্তমানে সেতুতে পাকা ঢালাই নেই। এতে পুরো সেতুতেই খানাখন্দ, যার কারণে প্রতিদিনই সিএনজি নষ্ট হচ্ছে।’
ট্রাকচালক মোমেন মিয়া জানান, সেতুতে খানাখন্দে গর্ত হয়ে গেছে। ফলে ট্রাক ঝুঁকি নিয়ে চালাতে হচ্ছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী লোকমান হোসেন জানান, সেতুর নির্মাণ কাজ ভালো না হওয়ার কারণে সেতুটি ভেঙে যাচ্ছে। এই সেতু দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে সেতুটি ঝুকির মধ্যে আছে। মেরামত না হওয়ার কারণে সেতুর স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব সেতুটি মেরামত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে নরসিংদী সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (শিবপুর উপ-সড়ক বিভাগ) রাজীব কুমার দাস বলেন, ‘সেতুটি মেরামতের জন্য যে বিটুমিন প্রয়োজন তার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। বর্ষাকাল শেষ হলেই সেতুটি মেরামত করা হবে।’



