সাঘাটায় শিবির নেতা সাইফুল্লাহ হত্যায় ৬ জনের নামে মামলা, গ্রেফতার ৩

‘ঘটনার দিন এক আসামি আটকের পরে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে তার দেয়া তথ্যমতে সোমবার রাতে আরো দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

সোহাগ খন্দকার, সাঘাটা (গাইবান্ধা)

Location :

Saghata
গ্রেফতার তিন আসামি
গ্রেফতার তিন আসামি |সংগৃহীত

গাইবান্ধা সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারীর হত্যার ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ১০/১৫ জনের নামে সাঘাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

‎মঙ্গলবার (২৩ জুন) মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) পবিত্র কুমার হত্যা মামলা ও তিন আসামি গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (২২ জুন) রাতে মামলাটি গ্রহণ করা হয়। এর আগে রোববার (২১ জুন) রাতে ৩ নম্বর আসামি এবং সোমবার (২২ জুন) রাতে এ মামলার ৪ নম্বর ও ৬ নম্বর আসামিকে বোনারপাড়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

‎মামলার আসামিরা হলেন বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল, মুকুলের ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ খন্দকার, বোনারপাড়া ৫ নম্বর বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, মোনারুল ইসলাম, বোনারপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য শাহ আলম। এঘটনায় জড়িত অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‎গ্রেফতারকৃতরা হলেন, সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামের আকবর খন্দকারের ছেলে আশরাফ খন্দকার, তাইড় গ্রামের শাহ আলম শিমুলের ছেলে রবিউল ইসলাম ও বোনারপাড়া গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে শাহ আলম।

‎সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পবিত্র কুমার বলেন, ‘ঘটনার দিন এক আসামি আটকের পরে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে তার দেয়া তথ্যমতে সোমবার রাতে আরো দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত মোট তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

‎উল্লেখ্য, গত ২১ জুন বিকেলে সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বেলা পৌনে ৩টার দিকে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান মুকুল ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালিয়ে ছুরিকাঘাত করেন।

‎ঘটনার পর একই রাতে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করে জেলা যুবদল। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে।