ময়মনসিংহে অপরিপক্ব লিচুতে সরগরম বাজার, প্রতারিত ক্রেতারা

জেলার সদরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি জাতের ছোট-বড় লিচু থোকায় থোকায় বিক্রি হচ্ছে। বাইরে থেকে আকর্ষণীয় দেখালেও অধিকাংশ লিচুই এখনো পুরোপুরি পাকেনি।

মো: সাজ্জাতুল ইসলাম, ময়মনসিংহ

Location :

Mymensingh
অপরিপক্ক লিচু
অপরিপক্ক লিচু |নয়া দিগন্ত

গ্রীষ্মের জনপ্রিয় ও রসালো ফল লিচু—যার জন্য বছরজুড়ে অপেক্ষা করে থাকে সব বয়সের মানুষ। মৌসুম এলেই লালচে রঙের থোকা থোকা লিচু যেন বাজারজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি করে। কিন্তু মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই ময়মনসিংহের বিভিন্ন হাট-বাজারে অপরিপক্ব লিচুর ছড়াছড়ি দেখা গেছে। এতে করে চড়া দামে লিচু কিনেও হতাশা ও ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

জেলার সদরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি জাতের ছোট-বড় লিচু থোকায় থোকায় বিক্রি হচ্ছে। বাইরে থেকে আকর্ষণীয় দেখালেও অধিকাংশ লিচুই এখনো পুরোপুরি পাকেনি। অনেক ক্ষেত্রে ভেতরে শাঁস কম, স্বাদে টক এবং খাওয়ার উপযোগী নয়। তবুও এসব লিচু প্রতি ১০০টি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

ক্রেতারা বলছেন, বাহ্যিক রূপ দেখে লিচু কিনে বাসায় নিয়ে গিয়ে তারা হতাশ হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য কিনে এনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকেই। শহরের একাধিক ক্রেতা জানায়, দেখতে সুন্দর মনে হলেও খেতে গিয়ে বোঝা যায় লিচু এখনও কাঁচা। টক স্বাদ আর শাঁস কম থাকায় খাওয়াই যায় না।

এদিকে কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাভাবিকভাবে মে মাসের শেষ ভাগ থেকে জুনের মাঝামাঝি সময় লিচু পরিপক্ব হয়। কিন্তু অধিক মুনাফার আশায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী আগেভাগেই কাঁচা লিচু সংগ্রহ করে বাজারে তুলছেন। এতে করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দামও বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে লিচুর আকর্ষণীয় রঙ আনতে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিপক্ব ফল পাকাতে ব্যবহৃত এসব রাসায়নিক মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি আরও বেশি।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোক্তাদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সম্পূর্ণ পরিপক্ব না হওয়া পর্যন্ত লিচু কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে বাজার তদারকি জোরদার করে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি এবং ভোক্তাদের সতর্কতা বাড়ানো না গেলে প্রতিবছরই একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তাই এখনই প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, যাতে করে ক্রেতারা প্রতারণার শিকার না হন এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যায়।