জিএমপির কমিশনার

তদন্তের মানোন্নয়ন ছাড়া অপরাধ দমন ও বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সম্ভব নয়

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেছেন, তদন্তের মানোন্নয়ন ছাড়া অপরাধ দমন ও বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সম্ভব নয়। একজন তদন্তকারী কর্মকর্তার জন্য অপরাধের ধরন, ঘটনার সময় ও স্থান, আলামত সংগ্রহ এবং পূর্ববর্তী অপরাধের সাথে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

মোহাম্মদ আলী ঝিলন, গাজীপুর

Location :

Gazipur
জিএমপি কার্যালয়ের সভাকক্ষে জিএমপির কমিশনার
জিএমপি কার্যালয়ের সভাকক্ষে জিএমপির কমিশনার |নয়া দিগন্ত

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেছেন, তদন্তের মানোন্নয়ন ছাড়া অপরাধ দমন ও বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা সম্ভব নয়। একজন তদন্তকারী কর্মকর্তার জন্য অপরাধের ধরন, ঘটনার সময় ও স্থান, আলামত সংগ্রহ এবং পূর্ববর্তী অপরাধের সাথে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি।

এসব বিষয়ে সঠিক মূল্যায়ন করতে না পারলে তদন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। আধুনিক অপরাধ দমনে শুধু প্রচলিত পদ্ধতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে জিএমপি কমিশনার বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধী ও তাদের সহযোগীদের চিহ্নিত করতে হবে। সেই সাথে অপরাধের নেপথ্যে থাকা উদ্দেশ্য খুঁজে বের করাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে জিএমপি কার্যালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে ঈদ পুনর্মিলনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ দমন, তদন্ত কার্যক্রম এবং পুলিশের সীমাবদ্ধতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।

পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার বলেন, এ পুনর্মিলনী পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরো সুদৃঢ় করবে। সাংবাদিকদেরকে অপরাধ বিষয়ক সংবাদ প্রকাশে দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে পুলিশের কার্যক্রমে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মামলার তদন্তে তথ্যগত ঘাটতি থাকায় আদালতে সঠিক আলামত উপস্থাপন করা সম্ভব হয় না। এতে বিচারিক কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হয় এবং অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।

তিনি পেশাদারিত্ব, ঐক্য ও মানবিকতা বজায় রেখে জনগণকে মানসম্মত সেবা প্রদানের জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা এখনো অপ্রতুল। তাছাড়া যানবাহনের সঙ্কট থাকায় টহল এবং দ্রুত সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় বাধার সৃষ্টি হয়। তবে এসব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ নগরবাসী যেন দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা পায়।

সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কমিশনার বলেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় নির্দিষ্ট বাস ও ট্রাক স্ট্যান্ড না থাকায় মহাসড়কের পাশে যত্রতত্র পার্কিং করা হচ্ছে। এর ফলে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় পর্বে গাজীপুরের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ সাংবাদিকরা অংশ নেন। আলোচনায় সাংবাদিকরা গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির চিত্রও তুলে ধরেন। বিশেষ করে টঙ্গী ও আশদনগর এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। স্থানীয়ভাবে যে কোনো সময় বড় ধরনের সহিংসতা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

ঈদ পুনর্মিলনী সভায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপির) অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান এবং (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর ও অর্থ) জাহিদ হোসেন ভূঞা, (অপরাধ, দক্ষিণ বিভাগ) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ, সহকারী কমিশনার (স্টাফ অফিসার-পুলিশ কমিশনার) চৌধুরী মো: তানভীরসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।