অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যেকোনো চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না

‘গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। তাই জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সকল সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা উচিত। অন্যথায় জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।’

খুলনা ব্যুরো

Location :

Khulna
বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান
বক্তব্য রাখছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান |নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, ‘দেশে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার যেকোনো চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন সর্বশেষ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও প্রশাসক পদে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, যা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টারই অংশ। শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদলীয় শাসন চালু করেছিলেন, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘সারাদেশে চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না। কারণ সরকার গঠন করার আগে ও পরে চাঁদাবাজদের হাত আটকানো নাই। একটা চাঁদাবাজকে আপনারা শাস্তির আওতায় আনেন নাই। ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করেন নাই, বরং তার মিটার আগের থেকে বেড়ে গেছে। যদি এই অবস্থা জারি থাকে, তাহলে জনগণ জনগণের জায়গায় তার ভাগ্য নিয়ে হুমড়ি খাবে। আর কিছু দল, দলকানা কিছু মানুষ এবং কিছু গোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হবে।’

শনিবার (২৭ জুন) খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমানের পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ।

অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা দেন জেলা নায়েবে আমির মাওলানা গোলাম সরোয়ার ও অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মুস্তাফিজুর রহমান ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, শেখ সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, এনামুল হক, অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী, মিয়া মুজাহিদুল ইসলাম, আশরাফুল আলম প্রমুখ।

অধ্যাপক মুজিব বলেন, ‘যে দল নিজ দলের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তারা কেমন করে দেশে সুশাসন দিতে পারবে! একটা বড় বাজেট দেয়া হয়েছে। অসুবিধা নাই, বাজেট দেয়ার দায়িত্ব সরকারের, বাস্তবায়ন করার দায়িত্বও সরকারের। তবে শুধু এতটুকু বলব, গত সাড়ে ১৫ বছরে এই বাজেট থেকে যেভাবে আওয়ামী লীগ আর তার দোসর ২৯ লাখ কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল, সেই পথে আপনারা হাঁটবেন না।’

তিনি বলেন, ‘যারা জনগণের রায়কে সম্মান করে না, তারা প্রকৃত গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হতে পারে না। যেহেতু প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে, তাই গণভোটে অনুমোদিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। এখনো সময় আছে, জনগণের রায়কে সম্মান করুন, গণভোটের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় জনগণের মতামত অগ্রাহ্য করে জোর করে শাসনব্যবস্থা চালাতে চাইলে জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি প্রতিষ্ঠা করবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরো বলেন, ‘গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। তাই জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে সকল সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা উচিত। অন্যথায় জনগণের মতামত উপেক্ষা করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।’

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৎ যোগ্য নাগরিক তৈরির মাধ্যমে মানবিক দেশপ্রেমিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে অবদান রেখেছে। এজন্য নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। সংসদে কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ভয় পায় না। নতুন করে ফ্যাসিবাদী আচরণ করলে জনগণকে সাথে নিয়ে রুখে দিবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের উপর সীমাহীন জুলুম নিপীড়ন চালানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করেই দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কাজ করছি। তাই আল্লাহ পাক আমাদেরকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে জামায়াতের রুকনদেরকে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। পতিত ফ্যাসিস্টদের ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশপ্রেমিক জনতাকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’