চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ‘আনোয়ারা মা-শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এ রোগীর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে ভুল তথ্য প্রদানের কারণে রোগীর চিকিৎসায় বিঘ্নিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৭ জুন) আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরীর বরাবর ভুক্তভোগীর স্বামী মো: মিজানুর রহমান এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, গত ৩১ মে আমার স্ত্রী হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে তাকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে আমি তাকে আনোয়ারা মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করাই।
আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিপোর্ট পর্যালোচনা করে জানান যে, রিপোর্টে কোনো সমস্যা নেই। এরপর তিনি ব্যথা উপশমের জন্য একটি ইনজেকশন প্রদান করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আমি আমার স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসি। কিন্তু বাড়িতে যাওয়ার পর তার ব্যথা আরো তীব্র আকার ধারণ করে। পরিস্থিতির অবনতি হলে সেদিন রাতেই তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসকরাও আনোয়ারা মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট পর্যালোচনা করে কোনো জটিলতা খুঁজে পাননি এবং ব্যথা নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা দেন।
পরদিন ১ জুন হাসপাতালের চিকিৎসক পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পরামর্শ দিলে আমি পার্কভিউ হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করাই।
ওই রিপোর্টে একটোপিক প্রেগন্যান্সি (জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ) ধরা পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য গত জুন ২ জুন ইপিক হেলথ কেয়ারে পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করালে সেখানেও একটোপিক প্রেগন্যান্সি শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে ৭ জুন পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আবারো আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে একই ফলাফল পাওয়া যায়।
অভিযোগে তিনি ‘আনোয়ারা মা-শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এর ভুল রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আনোয়ারা মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃক প্রদত্ত ভুল আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টের কারণে আমার স্ত্রীর সঠিক রোগ নির্ণয় বিলম্বিত হয় এবং তিনি গুরুতর জীবনঝুঁকির মধ্যে পড়েন। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ‘আনোয়ারা মা-শিশু জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ এর ব্যবস্থাপক সীমা আক্তার বলেন, আমাদের এখানে আল্ট্রাসনোগ্রামে কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি তাই রিপোর্টে নরমাল দেয়া হয়েছে।
পরপর তিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আল্ট্রাসনোগ্রামে সমস্যা ধরা পড়লেও আপনাদের এখানে ভুল রিপোর্ট আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বুধবার দুপুরে এই বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’


