লংগদুতে ১১ দিনেও নিখোঁজ মা ও শিশুর সন্ধান নেই

আজিজুল জানান, ঘটনার দিন তিনি ভাবিকে নিয়ে বাজারে চিকিৎসকের কাছে যান। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে জানতে পারেন, স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ। রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

বিপ্লব ইসলাম, লংগদু (রাঙ্গামাটি)

Location :

Rangamati
নিখোঁজ গৃহবধূ হাফসা (২২) ও তার তিন বছরের শিশু ছেলে
নিখোঁজ গৃহবধূ হাফসা (২২) ও তার তিন বছরের শিশু ছেলে |নয়া দিগন্ত

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নে নিখোঁজ এক গৃহবধূ ও তার তিন বছরের শিশুছেলেকে ঘিরে রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

নিখোঁজের ১১ দিন পার হলেও এখনো তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিখোঁজ গৃহবধূ হাফসা (২২) উপজেলার গুলশাখালী ইউনিয়নের সোনারগাঁও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিজুলের স্ত্রী। তার সাথে নিখোঁজ রয়েছে তিন বছরের ছেলে সন্তানও।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে বিকেলে হাফসা তার সন্তানসহ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। দু’দিন পর স্বামী আজিজুল লংগদু থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

আজিজুল জানান, ঘটনার দিন তিনি ভাবিকে নিয়ে বাজারে চিকিৎসকের কাছে যান। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে জানতে পারেন, স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ। রাতভর খোঁজাখুঁজি করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘পুলিশ তদন্ত করছে, কিন্তু এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।’ তবে ঘটনার পরই স্ত্রী পক্ষকে না জানানোর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আজিজুল জানান, দুই পরিবারের মধ্যে মামলা ও দ্বন্দ্ব চলছিল, রাগের কারণে প্রথমে জানানো হয়নি।

নিখোঁজ হাফসার বড় ভাই আক্কাস আলি অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার বোন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, তাকে পরিকল্পিতভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছে অথবা গুম করা হয়েছে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজিজুলের পরিবারের বিরুদ্ধে আগে ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাতের মামলা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, আজিজুল নিয়মিত মাদকাসক্ত অবস্থায় চলাফেরা করেন। এসব কারণে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা সন্দেহ ও আলোচনা চলছে।

নিখোঁজের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত সময়ের মধ্যে মা ও শিশুকে উদ্ধার করে রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকারিয়া বলেন, ‘স্বামীর পক্ষ থেকে থানায় জিডি করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে, তবে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মা ও শিশুকে উদ্ধারে কাজ চলছে।’