কোরবানির চামড়া ‘পানির দরে’ বিক্রি, বিপাকে মতলবের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কোরবানির গরুর চামড়া এবার ‘পানির দরে’ বিক্রি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ও ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা।

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

Location :

Chandpur
কোরবানির চামড়া ‘পানির দরে’ বিক্রি, বিপাকে মতলবের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা
কোরবানির চামড়া ‘পানির দরে’ বিক্রি, বিপাকে মতলবের মৌসুমি ব্যবসায়ীরা |নয়া দিগন্ত

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় কোরবানির গরুর চামড়া এবার ‘পানির দরে’ বিক্রি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ও ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা। কোথাও ৫০ টাকা, কোথাও ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকায় চামড়া বিক্রি হওয়ায় হতাশা বিরাজ করছে ব্যবসায়ী ও কোরবানিদাতাদের মাঝে। অন্যদিকে সংরক্ষণের অভাবে বিভিন্ন স্থানে চামড়ার স্তূপ পড়ে থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ঈদুল আজহার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর চামড়া বেচাকেনা চলছিল। পশু কোরবানির পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া নিয়ে জড়ো হন। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় অধিকাংশ ব্যবসায়ী চরম হতাশায় পড়েন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ হাজার ৬০০টি। এর বিপরীতে স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থদের কাছে মজুত ছিল ৫ হাজার ১২২টি পশু। ফলে প্রায় ৪৭৮টি পশুর ঘাটতি ছিল। মজুতকৃত পশুর মধ্যে ২ হাজার ১৮৫টি ষাঁড়, ৪৭৭টি বলদ, ৭২১টি গাভী ও ৮টি মহিষ ছিল। এ ছাড়া ১ হাজার ২২৬টি ছাগল ও ১০৯টি ভেড়াও ছিল।

চলতি বছর সরকারিভাবে ঢাকার বাইরে লবণযুক্ত কাঁচা গরুর চামড়ার সর্বনিম্ন মূল্য প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। তবে বাস্তবে বাজারে সেই দামের কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

এদিকে কম দামের কারণে অনেক কোরবানিদাতা পশুর চামড়া বিক্রি না করে মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করে দিয়েছেন। ছেংগারচর পৌর এলাকার জোরখালী গ্রামের সুমন আহমেদ বলেন, ‘দেড় লাখ টাকা দিয়ে গরু কিনে কোরবানি দিলাম। চামড়ার দাম বললো ১৫০ টাকা। পরে সেটি পাশের এতিমখানায় দিয়ে দিয়েছি।’

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের সামনে ঘনিয়ারপাড় চৌরাস্তা ব্রিজের ওপর শত শত চামড়া পড়ে রয়েছে। পচন ধরে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চামড়ার স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

ঘনিয়ারপাড় এলাকার চামড়া ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, ‘আমি ২৫ বছর ধরে এই ব্যবসা করি। প্রতিবছর ঢাকা থেকে পাইকাররা এসে চামড়া নিয়ে যেতেন। কিন্তু এবার কেউ আসেননি। প্রায় ৭০ হাজার টাকা দিয়ে চামড়া কিনেছি। এখন আবার লবণ কিনে এনে সংরক্ষণের চেষ্টা করছি। বিক্রি করতে না পারলে আমি শেষ হয়ে যাব।’

একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী হান্নু মোল্লা বলেন, ‘চামড়ার ব্যবসা করতে এসে এবার ৪-৫ লাখ টাকার মতো লোকসান খামু (হবে)।’

কিছু লাভের আশায় ষাটনল এলাকার শাহিন মিয়া প্রায় ১০০টি গরুর চামড়া সংগ্রহ করে বিক্রি করতে আসেন। তিনি জানান, প্রতিটি চামড়া প্রায় ৩০০ টাকায় কিনলেও বাজারে এসে দেখেন সর্বোচ্চ ২০০ টাকার বেশি কেউ দিতে চাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তিনি চামড়া বিক্রি করতে পারেননি।

তিনি বলেন,‘চামড়া কিনে এখন বড় বিপদে আছি। যে দামে কিনেছি, সেই দামও উঠছে না।’

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’