ভোলাহাটে ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কর্মী নিয়োগে রাজনৈতিক প্রত্যয়নপত্র চাওয়ার অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে রাজনৈতিক দলীয় প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Bholahat
ভোলাহাট উপজেলা কার্যালয়
ভোলাহাট উপজেলা কার্যালয় |নয়া দিগন্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রমে সুপারভাইজার ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে রাজনৈতিক দলীয় প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সুপারভাইজার ও স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে উপজেলা থেকে শিক্ষিত বেকার মোট ৬৩০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। পরে ২৯ জুলাই প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ১০ আগস্ট চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফলে উপজেলার চারটি ইউনিয়ন থেকে চারজন সুপারভাইজার ও ৪২ জন স্বেচ্ছাসেবীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়।

তবে অভিযোগ উঠেছে, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছ থেকে পুলিশের জেলা বিশেষ শাখার (ডিএসবি) মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক দলীয় সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দিতে বলা হচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর নির্বাচিত প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, একটি সরকারি কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের জন্য উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেয়ার পর চূড়ান্ত নির্বাচনের পর্যায়ে রাজনৈতিক দলীয় সম্পৃক্ততার তথ্য কেন চাওয়া হচ্ছে? নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনার কোনো বিষয় থাকলে শুরুতেই তা বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি কেন—এমন প্রশ্নও তুলছেন তারা।

তাদের দাবি, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় মেধা, যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্তের ভিত্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন করা হোক। একই সাথে রাজনৈতিক দলীয় প্রত্যয়নপত্র বা সম্পৃক্ততা সংক্রান্ত তথ্য চাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বেচ্ছাসেবী বলেন, ‘আমাকে ফোন করে জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়। আমি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় গেলে আমাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। একপর্যায়ে আমাকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করতে বলা হয়। আমি বারবার বলেছি, আমি কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নই। তবে আমার স্বামীর পরিবারের সদস্যরা বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এরপরও আমাকে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রত্যয়নপত্র দিতে না পারলে আমাকে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে।’

মোসা: নজিফা ইয়াসমিন নামে এক সুপারভাইজার বলেন, ‘আমাকে ফোন করে থানায় ডাকা হয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সেখানে যাওয়ার পর আমার কাছে রাজনৈতিক দলীয় প্রত্যয়নপত্র চাওয়া হয়। কিন্তু আমি কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নই। রাজনৈতিক প্রত্যয়নপত্র কার কাছ থেকে নেব বা আদৌ এমন প্রত্যয়নপত্র দিতে পারব কি না, সেটাও আমি জানি না।’

সচেতন মহল জানায়, এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় প্রত্যয়নপত্র চাওয়া অযৌক্তিক। আমরা চাই, যোগ্যতা ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তের ভিত্তিতে সবার মূল্যায়ন হোক। কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে হয়রানি, চাপ প্রয়োগ বা বৈষম্যের শিকার করা যেন না হয়।

রাজনৈতিক দলীয় প্রত্যয়নপত্র চাওয়ার বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নাহিদ হোসেন বলেন, ‘তাদের (ডিএসবি) তদন্ত করতে দেয়া হয়েছে, সেটা তাদের বিষয়। রাজনৈতিক প্রত্যয়নপত্র চাওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আমাদের পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি।’