ভারতের উজানে বৃষ্টিপাত কমে আসায় সিলেট বিভাগের নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে এখনো ভয়াবহ দুর্ভোগ বিরাজ করছে। মনু ও খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় দুই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয় সঙ্কটের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববারও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সোমবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কমার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে ভারতের ত্রিপুরা, মেঘালয় ও আসামে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় উজানের ঢলের চাপও কমতে শুরু করেছে। ফলে নতুন করে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা আপাতত কমলেও নদীর পানি এখনো অনেক স্থানে উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উজানে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।
মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে চার উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। মনু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দুই জেলায় হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে এবং কৃষি, মৎস্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে শুরু করায় নিম্নাঞ্চলের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও প্রশাসন এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে সিলেটের সব নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সারি-গোয়াইন নদীর পানি কিছু পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোও দুর্গত মানুষের সহায়তায় কাজ করছে। তবে দুর্গতদের দাবি, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।



