পাটগ্রাম ( লালমনিরহাট) সংবাদদাতা
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশের সময় আটক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) সাব্বির বিন শামসকে (৫৭) গণ-অভ্যুত্থানে করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার সীমান্তবর্তী দহগ্রাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রোববার (১৭ মে) তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান।
পাটগ্রাম থানা–পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অনুপ্রবেশের অভিযোগে গতকাল দুপুরের দিকে পাটগ্রামের দহগ্রাম আঙ্গরপোতার (বিলুপ্ত ছিটমহল) বঙ্গের বাজার সীমান্ত এলাকা থেকে সাব্বির বিন শামসকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি কুটনৈতিক পাসপোর্টসহ (লাল রঙের) মোট সাতটি পাসপোর্ট, একটি আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স, একটি বাটন ফোন এবং কিছু বাংলাদেশি টাকা পাওয়া যায়।
পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক জানান, ওই ঘটনায় পাটগ্রাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল সন্ধ্যায় সাব্বির বিন শামসকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) হেফাজতে পাঠানো হয়।
লালমনিরহাট সদর থানার ওসি সাদ আহমেদ বলেন, ‘গতকাল রাতে সাব্বির বিন শামসকে সদর থানা পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়। লালমনিরহাট সদর থানার বহুল আলোচিত আগুনে পুড়ে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ দুপুরে লালমনিরহাটের আদালতে সোপর্দ করেছি।’
উল্লেখ্য, চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুমন খানের বহুতল বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুনে পুড়ে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৭ মে লালমনিরহাট সদর থানায় দায়ের করা হয়। ওই মামলায় সাব্বির বিন শামসকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তিনি লালমনিরহাট শহরের ঐতিহ্যবাহী বকসি বাড়ির সন্তান।
লালমনিরহাট সদর থানায় আজ দুপুরে সাব্বির বিন শামস সাংবাদিকদের বলেন, তিনি ২০২০ সালের আগস্ট মাসে আওয়ামী লীগের গবেষণা শাখা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) নির্বাহী পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ২০২১ সালে তৎকালীন সরকার তিন বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয়। প্রায় সাত মাস ওই পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি যুক্তরাজ্যের (ইউকে) বাংলাদেশ হাই কমিশনে মিনিস্টার পাবলিক ডিপ্লোম্যাসি পদে নিয়োগ পান। ২০২৩ সালে ওই পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন।
শামসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন (দুদক) কমিশনে মামলাও রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামস পুলিশকে জানিয়েছে ৫ আগস্টের ছাত্র জনতার গণঅভুত্থানের পর নেত্রকোনা জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যান। এতদিন তিনি কলকাতায় অবস্থান করেন। তবে কলকাতায় কোথায় কার আশ্রয়ে ছিলেন তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জআমান নয়া দিগন্তকে জানান সাব্বির বিন শামসকে আটকের পর লালমনিরহাট ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে যখন নিয়ে আসা হয় তখন তিনি বিধ্বস্ত অবস্থায় ছিলেন। শনিবার রাতে আবহাওয়া খুবই খারাপ থাকায় তেমন একটা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তবে তিনি কলকাতায় অবস্থানকালীন এতদিন কি করেছেন, কার কার সাথে যোগাযোগ ছিল এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার ভারত থেকে দেশে আসার পেছনে অন্যকোনো মোটিভ কাজ করছে কি-না এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আগামীকাল সোমবার (১৮ মে) আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।



