সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ছোট-বড় ২৩টি আগাম জাতের ধান পেকে যাওয়ায় ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। এবার এই উপজেলায় বাম্পার ফলনে খুশি হাওর পাড়ের হাজার হাজার কৃষক।
তবে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হতে আরো সপ্তাহ বা ১০ দিন সময় লাগবে। কাটা ধান হাওর থেকে খলায় এনে মাড়াই করে শুকিয়ে ধান ঘরের গোলায় তোলার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ততা সময় পার করছেন কৃষকরা।
অন্যদিকে, বৈরী আবহাওয়া আর বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের কারণে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবে বৈশাখের আনন্দ বিষাদে রূপান্তরিত হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকের হাসি-কান্নার লড়াই চলছে হাওরজুড়ে।
জানা গেছে, উপজেলার মাটিয়ান হাওর ও শনি হাওরসহ বিভিন্ন হাওরে উৎসবমুখর পরিবেশে আগাম জাতের ব্রি-২৮, ব্রি-৯৬ ধানসহ বিভিন্ন জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। এসব ধান চাষাবাদ করা অনেকে কৃষক ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
এদিকে, বৃষ্টির পানিতে হাওরের নিচু এলাকা জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাওয়ায় কয়েকটি হাওরের আধা পাকা ধান রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন কৃষকরা। শ্রমিক সঙ্কটে ধান কাটা মেশিন দিয়ে কাটতে গিয়ে কাদা মাটিতে আটকে যাচ্ছে। এতে বিপদে পড়েছেন কৃষকরা।
এছাড়াও প্রতি বছরেই কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের খরগ নামে ফসলি ধানের ওপর। এরপরও বংশ পরম্পরায় হাওরাঞ্চলে কৃষকরা চাষাবাদ করছেন বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় এবং জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন হিসেবে।
ফসল রক্ষায় চলতি বছরে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও ফসল হানির আশঙ্কা কাটে না। সময়মতো বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু ও শেষ না করায় আর নির্মাণে অনিয়মের কারণে অভিযোগ করেন হাওরাঞ্চলের কৃষকরা।
সাদেক আলী ও সাকিব মুন খোকনসহ উপজেলার সচেতনমহল বলেছেন, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে আর ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে পাহাড়ি ঢল না আসে এবং ফসল রক্ষা বাঁধ ঠিক থাকে, তাহলে ঘাম ঝরানো সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবে। না হলে আনন্দের মৌসুমেই কান্নার রোল পড়তে পারে হাওরাঞ্চলের হাজারো কৃষক পরিবারের।
উপজেলার মাটিয়ান হাওরের কৃষক আলী হোসেন বলেন, ‘আমার জমিতে ব্রি-৯৬ চাষ করেছিলাম, ফলনও ভালো হয়েছিল কিন্তু পাকা ধান কাটার সময় দেখা গেল বেশিভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।’
শনির হাওরের কৃষক শফিক মিয়া বলেন, ‘ফসল ভালো হলে কী হবে, ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে চিন্তায় আছি। বাঁধ নির্মাণে একে তো দেরি, অপরদিকে অনিয়মের কারণে বাঁধ দুর্বল হয়েছে। এর মধ্যেই বৈশাখের আনন্দের মাঝেই নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টি। পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবির ঘটনা না ঘটে তার জন্য দোয়া করছি।’
তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি ধানের উৎপাদন হবে এবং আশা করছি কৃষকরা তাদের কষ্টে ফলানো ফসল কেটে গোলায় তুলতে পারবে। এবার উপজেলায় ৩০০ কোটি টাকার ধান উৎপাদন হবে আশা করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি তারা যেন ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলে দ্রুত ধান কেটে ফেলে। মাঠে আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি।’



