সাতকানিয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে দুই এমপি-সেনাবাহিনী

বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মৎস্য খামার ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। উপজেলার প্রধান সড়কসহ অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে থাকায় সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। টানা তিন দিন ধরে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে

Location :

Satkania

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা এখনো পানির নিচে। তবে শুক্রবার রাত থেকে কয়েকটি উঁচু এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির আভাস মিলেছে। অন্যদিকে শঙ্খ নদী এবং ডলু ও হাঙর খালের পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, মৎস্য খামার ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। উপজেলার প্রধান সড়কসহ অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে থাকায় সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। টানা তিন দিন ধরে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। পানিবন্দী মানুষ খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিতরণ করা ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এদিকে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া আংশিক-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার অধিকাংশ উঁচু-নিচু এলাকা এখনো পানির নিচে রয়েছে। ডলু ও হাঙর খালের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরোজটিল হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে কিছু উঁচু এলাকা থেকে পানি নামলেও নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রবল স্রোতে গ্রামীণ কাঁচা, আধাপাকা ও পাকা সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক সড়কে এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি থাকায় মানুষের চলাচল ও যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

সাতকানিয়া পৌরসভাসহ কেঁওচিয়া, ছদাহা, সাতকানিয়া সদর, বাজালিয়া, পুরানগড়, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, আমিলাইশ, খাগরিয়া, নলুয়া, চরতি, এওচিয়া, কাঞ্চনা, সোনাকানিয়া, মাদার্শা, ঢেমশা ও পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা এখনো প্লাবিত। বন্যার পানিতে হাজার হাজার একর আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। শত শত মৎস্য খামার ও পুকুরের মাছ ভেসে গিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি আমন ধানের বীজতলা এবং শীতকালীন ও বারোমাসি বিভিন্ন সবজির ক্ষেত নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন সাতকানিয়ার অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত সেতু ও কালভার্ট না থাকায় পাহাড়ি ঢলের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে না। এছাড়া খাল-নালা ভরাট এবং অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণেও সামান্য ভারী বর্ষণেই বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

অন্যদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাসদস্যরা স্পিডবোট ও নৌকার সাহায্যে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করছেন এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুকনো খাবার ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, বন্যাকবলিত মানুষের সহায়তায় উপজেলা পরিষদে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ (কন্ট্রোল রুম) খোলা হয়েছে। ইতোমধ্যে পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে ১ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। তবে অধিকাংশ এলাকা ও সড়ক পানির নিচে থাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। এরপরও দ্রুততম সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।