উলিপুরে ডায়রিয়া ও জ্বরের প্রকোপ, চাপে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

‘বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ওষুধ ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসকরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।’

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Ulipur
ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর চাপে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর চাপে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের উলিপুরে হঠাৎ করে ডায়রিয়া ও মৌসুমি জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাপ তৈরি হয়েছে। ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা, ফলে স্বাভাবিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ছয় দিনে ডায়রিয়া ও জ্বরজনিত সমস্যায় অন্তত ৪৪ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও নতুন রোগী আসার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় চাপ কমছে না।

চিকিৎসকদের মতে, তাপমাত্রার আকস্মিক বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির স্বল্পতা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ডায়রিয়ার সংক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একইসাথে মৌসুমি জ্বরেও আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ না হয়ে শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে এসেছেন।

পৌর শহরের জুনাইডাঙ্গা এলাকার নুর আলম জানান, তার ১৪ মাস বয়সী সন্তান কয়েকদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় ভর্তি করাতে হয়েছে।

চিলমারীর রাণীগঞ্জ এলাকার ফারুক মিয়া বলেন, গ্রামের চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন।

এদিকে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন থেকে আসা এক রোগী জানান, কয়েকদিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তবে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত জায়গা ও পরিবেশের সঙ্কট রয়েছে, যা ভোগান্তি আরো বাড়াচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ওষুধ ও স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসকরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।’ আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে আপাতত রোগীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।