পতাকা বৈঠকে সমাধান মেলেনি, শূন্যরেখায় দিন কাটছে শিশুসহ ৯ জনের

রোববার ভোরে রৌমারী সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালোড়চর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। ছয়জনের মধ্যে একজন নারী, তিনজন পুরুষ ও দু’জন শিশু রয়েছে।

রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম

Location :

Kurigram
বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক
বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার শিকার নয়জন নারী, পুরুষ ও শিশু এখনো শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করছেন। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে ওই নয়জন ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশেই শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তের আন্তর্জাতিক ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের ১ নম্বর সাব-পিলার এলাকা দিয়ে ভারতের ঝালোড়চর ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়। তবে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ছয়জনের মধ্যে একজন নারী, তিনজন পুরুষ ও দু’জন শিশু রয়েছে।

একই সময়ে উপজেলার ভন্দুরচর সীমান্তের ১০৬৫ নম্বর পিলার এলাকা দিয়ে আরো তিনজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। ফলে দুই সীমান্ত এলাকায় মোট নয়জন পুশইনের শিকার হন।

এদিকে ঘটনাটিকে ঘিরে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে বিজিবি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় দুপুরে সীমান্তে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ৩৫ বিজিবির দাঁতভাঙ্গা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার ঠান্ডু মিয়া বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন। অন্যদিকে ভারতের ১৮৩ ব্যাটালিয়নের বিএসএফের ঝালোড়চর ক্যাম্পের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার।

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছেন।