ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন শেষ, নিখোঁজ রাব্বির খোঁজ নেই

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, ‘নিখোঁজ যুবকের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।’

মাদারীপুর প্রতিনিধি

Location :

Madaripur
রফিকুল ইসলাম রাব্বি
রফিকুল ইসলাম রাব্বি |নয়া দিগন্ত

লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতনের ভিডিও পাঠানোর পর হার্ট অ্যাটাক বন্ধ হয়ে মারা গেছেন মাদারীপুরের যুবক রফিকুল ইসলাম রাব্বির মা-বাবা। দালালচক্রের হাতে একাধিকবার মুক্তিপণ হিসেবে ৮৫ লাখ টাকা দেয়ার পরও এক সপ্তাহ ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

রফিকুল ইসলাম রাব্বি মাদারীপুর সদর উপজেলার মধ্য খাগদী এলাকার বাসিন্দা। প্রায় দুই বছর আগে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন তিনি। পরে লিবিয়ায় পৌঁছে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে বন্দি হন। নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হয় তার পরিবারের কাছে। সেই ভিডিও দেখে দেড় বছর আগে মারা যান বাবা জলিল বেপারী এবং ছয় মাস আগে মা মেহেরুন নেছা।

পরিবারের অভিযোগ, সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের তালতলা এলাকার আয়ুব আলী মাতুব্বরের ছেলে রিয়াজুল মাতুব্বর, তার শ্বশুর জামাল ফকির ও শাশুড়ি রোমানা বেগমের সাথে চুক্তি করে রাব্বিকে বিদেশে পাঠানো হয়। কিন্তু সরাসরি ইতালি না পাঠিয়ে তাকে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন চালিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয় লাখ লাখ টাকা।

রাব্বির বড় বোন তানজিলা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাইকে জিম্মি করে মোট ৮৫ লাখ টাকা নিয়েছে। আমরা দালালচক্রের বিচার চাই এবং ভাইকে দ্রুত ফেরত চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা সাগর বেপারী জানান, রিয়াজুল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করে আসছে। এই চক্রের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত রোমানা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘রাব্বি কখন, কার মাধ্যমে কোথায় গেছে আমি জানি না। টাকা লেনদেনের বিষয়েও আমি অবগত নই।’

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, ‘নিখোঁজ যুবকের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।’

মানবপাচারের এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা রাব্বির নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং দালালচক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।