নবীনগরে র‍্যাবের ওপর ডাকাতের হামলা, আহত ৩

পুলিশের সহায়তায় অবরুদ্ধ তিন র‍্যাব সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। পরে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে রেফার হয়ে চলে যান তার।

খান জাহান আলী চৌধুরী, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

Location :

Nabinagar
র‍্যাবের ওপর ডাকাতের হামলা
র‍্যাবের ওপর ডাকাতের হামলা |নয়া দিগন্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামের একাধিক মামলার আসামি শফিক ও তার বাহিনীর হাতে র‍্যাবের তিন সদস্য আটক ও মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার খাগাতুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, র‍্যাবের তিন সদস্য আহত অবস্থায় রয়েছে, হামলাকারীদের বলতে শোনা যায়, ‘ক, মার দুধের কসম, আজীবন আর এই খাগাতুয়া গ্রামে আইতি না, যদি প্রশাসনের লোক আবার খাগাতুয়া আইচ্ছ, একবারে কাইট্টা ফালাই দিমু। এর আগে দুইবার আইচ্ছ আমারে ক্রসফায়ারে মাইরালাতি। অপরদিকে র‍্যাব সদস্যরা বলছেন, মায়ের দুধের কসম, আল্লাহ জেন আমাদের দ্বারা আপনার কোনো ক্ষতি না করে।’

খবর পেয়ে র‍্যাব সিপিসি-১ এর একটি দল ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় অবরুদ্ধ তিন র‍্যাব সদস্যকে উদ্ধার করা হয়। পরে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে রেফার হয়ে চলে যায়।

র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৯, সিলেট, ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানী (সিপিসি)-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোম্পানি কমান্ডার মো: নূর নবী জানান, আমাদের চারজন সদস্য নবীনগর–বাঞ্ছারামপুর এলাকায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য খাগাতুয়া গ্রামের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় শফিক ডাকাত ও তার দল তাদের গতিরোধ করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনজন সদস্য আহত হন। দু’জনের হাত ভেঙে গেছে এবং একজনের মাথায় কুপ লেগেছে।

তিনি বলেন, ‘এ সময় সার্জেন্ট ফারুক কোনোভাবে স্থান ত্যাগ করতে সক্ষম হলেও বিজিবি-এর হাবিলদার এ কে এম রাশেদ মোশারফ (৪২), কনস্টেবল মো: কাজল মিয়া (৩৩) ও কনস্টেবল মো: আব্দুল মালেককে (৩৪) আটক করে মারধর করে।

নবীনগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আহত র‍্যাবের সদস্যরা নবীনগর সরকারি হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে গেছেন। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং কেউ গ্রেফতারও হয়নি।’

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, শফিক দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার পুলিশের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। সে হত্যা, চুরি, হামলা ও ভাঙচুরসহ ২৮ মামলার আসামি।