ইরান যুদ্ধে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি আরো খারাপ হলে প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।’
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দানে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বেলা ৩টায় মন্ত্রী সিলেট থেকে নিজ জেলা মৌলভীবাজারে এসে জেলা সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সেখানে মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন। পরে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার শেষে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন মন্ত্রী। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন।
পরে বিকেল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাহারমর্দানে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মরহুম এম সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত করেন মন্ত্রী এবং মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মরহুম সাইফুর রহমানের জ্যেষ্ঠ ছেলে ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল মুকিত, মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বকসী মিসবাউর রহমান, মো: ফখরুল ইসলাম, মো: হেলু মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান মজনু, স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী, শ্যামলী সূত্র ধর, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মারুফ আহমেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারত শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বড়লেখার যে বাংলাদেশী সম্প্রতি নিহত হয়েছেন তার পরিবারের সদস্যদের সাথে সরকার যোগাযোগ রাখছে। সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেলে তার লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একইভাবে সিলেটের আরেক বাংলাদেশীর মৃত্যুর বিষয়েও খোঁজখবর নেয়া হয়েছে এবং একই প্রক্রিয়ায় তার লাশ দেশে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে কোথায় কী ঘটছে তা অনিশ্চিত হওয়ায় ওই অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন, বিভিন্ন অফিস-আদালত বন্ধ রয়েছে। তাদের অন্তত খাদ্য ও মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘পরিস্থিতি আরো অবনতি হলে প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সরকার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। তবে বর্তমানে বিমান চলাচলের রুট বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কিংবা যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ বিষয়ে তদারকির জন্য যুগ্ম সচিবদের নেতৃত্বে ছয়টি টিম গঠন করা হয়েছে। এসব টিম বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গিয়ে মালিকদের সাথে বৈঠক করে শ্রমিকদের বেতন, বোনাসসহ প্রাপ্য সবকিছু নিশ্চিত করবে।’



