হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর ১০ নম্বর লস্করপুর ইউনিয়নের কালিগঞ্জ নামক স্থানে বাঁধ ভেঙে অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে খরস্রোতা খোয়াই নদীর পানি দ্রুত গতিতে লোকালয়ে প্রবেশ করতে থাকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়ন ও বাহুবল উপজেলার লামাতাশী ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়।
রাতেই সাধারণ মানুষ গৃহপালিত পশু ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যান। অনেকে বাড়িঘরে তালাও লাগাতে পারেননি। বাঁধ ভাঙনের স্থান দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল। তবে প্রশাসনের কেউ তাতে বাধা দেননি।
ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে প্রতিরক্ষা বাঁধ সরু হয়ে যায় এবং নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে গর্ত করে বড় বড় পাইপ বসানোর কারণে বাঁধটি দুর্বল হয়ে যায়। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার রাতে বাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে জাতীয় সংসদের হুইপ ও হবিগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।
তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় জি কে গউছ বলেন, ‘ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে কারো দলীয় পরিচয় বিবেচনায় আনা হবে না।’ জেলা প্রশাসক (ডিসি), পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামত করার জন্য তাগিদ দেন তিনি।
এদিকে খোয়াই নদীর বানিয়াচং অংশের রাধাপুর নামক স্থানেও বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। তবে রাধাপুর এলাকাটি হবিগঞ্জের নিম্নাঞ্চল হওয়ায় তাতে মানুষের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে খোয়াই নদীর বাঁধের হবিগঞ্জ শহরের পাশে বাতাসর গ্রাম দিয়ে ভাঙনের ফলে হবিগঞ্জ শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের সময় খোয়াই নদী হবিগঞ্জ শহরের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা হলেও নদী খনন, নদীর পাড় প্রশস্থ ও উঁচুকরণের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।



