আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসে খুলনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

গুমের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর দেয়া এবং তা আইনে উল্লেখ করতে হবে। গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি এখনো ফিরে আসেনি, তাদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে।

খুলনা ব্যুরো

Location :

Khulna
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে খুলনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে খুলনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ |নয়া দিগন্ত

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে খুলনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) খুলনা প্রেস ক্লাসের সামনের সড়কে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিট এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব ও অধিকার প্রস্তুতকৃত দিবসের বিবৃতি পড়ে শোনান মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিটের ফোকালপার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা বলেছেন, এখনো পর্যন্ত গুমের শিকার হয়ে যারা ফিরে আসেননি অবিলম্বে স্বজনদের কাছে তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। একইসাথে গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পরিবারকে পূণর্বাসন করতে হবে। আর গুমের শিকার কেউ জীবিত না থাকলে সেটিও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের পরিবারকে জানাতে হবে। এটি করতে ব্যর্থ হলে দেশে আবারো ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থা কায়েম হবে এবং গুমের সংস্কৃতি ফিরে আসবে।

তারা আরো বলেন, প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২-এর ১৪ (৩) ও ২১ ধারা সংশোধন করে বিতর্কহীন একটি সুন্দর আইন প্রণয়ন ও তা জাতীয় সংসদে পাশ করতে হবে।

সমাবেশে আরো বলা হয়, গুমের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর দেয়া এবং তা আইনে উল্লেখ করতে হবে। গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি এখনো ফিরে আসেনি, তাদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া যে সমস্ত ব্যক্তি গুমের পর ফেরত এসেছেন তাদের অনেকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ও আমার দেশ-এর খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি ও মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান মো: রাশিদুল ইসলাম, সুজন খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এস কে তাসাদুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব আল-আমিন, খুলনা থানায় পুলিশের নির্যাতনের শিকার সাবেক ছাত্রদল নেতা এস এম মাহমুদুল হক টিটো, মানবাধিকারকর্মী শেখ আব্দুল হালিম, সাবেক যুবদল নেতা জি এম রাসেল ইসলাম, খুলনা জেলা ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি শেখ ফারুক, রোটারিয়ান সাখাওয়াত হোসেন স্বপন ও গুম থেকে ফিরে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো: ইমরান হোসেন।