বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
প্রিয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাতে শনিবার (২০ জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। শোক, শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শনিবার বাদ জোহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে তার লাশ পৌর শহরের শেরপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দাফনের আগে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব, রেড ক্রিসেন্ট এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো: আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার শাহ মো: আব্দুর রউফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের এম এ হান্নান এমপি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের এম এ মান্নান এমপি, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাঈদুল হক সাঈদ, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসেন, এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো: আতাউল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নিয়াজুল কারীম, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
জানাজা শেষে নেতৃবৃন্দ মরহুমের রাজনৈতিক জীবন, সততা, নেতৃত্বগুণ ও গণমানুষের প্রতি তার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, ‘হারুন-অর-রশিদ ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনীতির অভিভাবক। দলের দুর্দিনে তিনি সাহসিকতার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মৃত্যু শুধু বিএনপির নয়, পুরো জেলার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি ছিলেন কর্মীবান্ধব নেতা। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সবাই তাকে সম্মান করতেন। তার আদর্শ আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোবারক হোসেন বলেন, ‘মরহুম হারুন-অর-রশিদ রাজনৈতিক অঙ্গনের একজন অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নিয়াজুল কারীম বলেন, ‘তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।’
অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী হারুন-অর-রশিদ ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে বিজয়ী হন। তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ ও চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী এবং পরে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদের হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কর্মদক্ষতা, সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন। তার মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ছিল গভীর শোকের আবহ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো ফুলেল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে উপস্থিত হন।
এর আগে শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৃথক জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার জানাজায় জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। পরে মরহুমের প্রতি রাষ্ট্র ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।



