বরগুনার পাথরঘাটায় তিন মাসের শিশু সন্তানকে কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে মায়ের হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে মো: ছগির হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ও সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রোববার (১ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নিজলাঠিমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, পরকীয়ার অভিযোগ তুলে ওই নারীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার তিন মাসের শিশু সন্তানকে কোল থেকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটে। এমন ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সন্তানকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ওই নারীর হাত-পা বাঁধা হচ্ছে। এ সময় পাশে শিশু সন্তানটি অনবরত কান্না করতে শোনা যায়। এসময় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা ছগির হোসেন পাশে চেয়ারে বসা ছিলেন। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দার ঝড় ওঠে।
ওই নারীর বাবা আব্দুস সালাম সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে জানান, রোববার রাত সাড়ে ১১টায় টার দিকে বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ছগির হোসেন মোবাইল ফোনে কল করে জানান যে তার মেয়ের বাসা থেকে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন, ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ছগিরের নেতৃত্বে কয়েকজন তার মেয়ে ও এক যুবককে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে পরোকিয়ার অভিযোগে মারধর করছে।
তিনি আরো জানান, রাত ১১টার দিকে আমার মেয়ে আমার বাড়িতে খাবার খেয়ে একটু সামনেই তার বাড়িতে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে এক যুবককে আটক করে তার মেয়ের কাছে নিয়ে আসে। এরপর তার মেয়ের সাথে ওই যুবককে বেঁধে মারধর করা হয়। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের সাথে আমাদের জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। এসময় ছগির হোসেন সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রাখে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারীর বাবা।
পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউপি সদস্য (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) মো: ছগীর হোসেন জানান, নিজলাঠিমাড়ার ঘটনার খবর পেয়ে গিয়ে এক নারী ও এক পুরুষকে রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখি। পরে ওই নারীর বাবাকে ডেকে আনা হলে তিনি মেয়েকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়ার আশ্বাস দেন। স্থানীয়দের দাবিতে একপর্যায়ে ওই নারীকে জুতাপেটা করা হয়।
সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে মামলা বা হয়রানি এড়াতেই এ স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।’
এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা জানান, বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে অবস্থান।



