বড়াইগ্রামে দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ ওসমান গণিকে স্বপদে পুনর্বহালের চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার বিকালে উপজেলার মালিপাড়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে মাদ্রাসার সামনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল হাকিম, সমাজসেবক আব্দুল আউয়াল ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াসউদ্দিন মনির বক্তব্য রাখেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, ওসমান গণি উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতি ও স্থানীয় ইসলামপুর-গুনাইহাটি ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ। আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় ২০১৫ সালে তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান। এরপর তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারী আচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ভুক্তভোগী কয়েকজন নানা সময়ে দেয়া প্রায় ২০ লাখ টাকা ফেরত দিতে চাপ দেন। তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ পদ ছাড়েন।
পরে ১ অক্টোবর মাদ্রাসার ১৯ জন শিক্ষক ও ৭ জন কর্মচারী নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এবং অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠান। কিন্তু সম্প্রতি একটি পক্ষ মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাকে অধ্যক্ষ পদে পুনর্বহালের চেষ্টা করছে। বক্তারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে তাকে পুনর্বহালের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসনকে দায়ী থাকতে হবে।
তবে মাওলানা ওসমান গণি বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে ঘটনাটি (পদত্যাগ) ঘটেছিল। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তিনি সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্বে ফিরতে চান।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তসলিম উদ্দিন বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ আবার ফিরে আসার চেষ্টা করছেন বলে তিনি শুনেছেন। তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ দেয়া আছে।



