ফেনী অফিস
ফেনীতে মোহনা টিভির ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম প্রতিনিধি নিজাম উদ্দিন সজিবের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে ফেনী নদীতে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ছাগলনাইয়া উপজেলার সোনাপুর গ্রামের ফেনী নদীর তীর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে ফেনী প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন জেলার কর্মরত সাংবাদিকরা। ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রবিউল হক রবি, মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, জসিম মাহমুদ, কামাল উদ্দিন ভূঞা, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল, স্বদেশপত্র সম্পাদক এনএন জীবন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনির, বণিক বার্তা প্রতিনিধি নুর উল্যাহ কায়সার, একাত্তর টিভি ও যুগান্তর প্রতিনিধি নুরুজ্জামান সুমন, শেখ কামাল, এমএম রহমান সোহেল, জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, কবির আহমদ নাসির, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক দুলাল তালুকদারসহ অন্যরা। বক্তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ ঘটনায় সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজিব বাদী হয়ে যুবদল নেতা এমরান শিকদারকে প্রধান আসামি করে দুজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে আসামি করে ছাগলনাইয়া থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ইউনুস (৪৭) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। তিনি জয়চাঁদপুর গ্রামের নিজাম উদ্দিন ওরফে পেয়ার মিয়ার ছেলে।
আহত সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজিব অভিযোগ করেন, মোবাইল ফোনে সংবাদ সংগ্রহের কথা বলে তাকে ফেনী নদীর তীরবর্তী জগন্নাথ সোনাপুর এলাকার বালুর মাঠে ডেকে নেয়া হয়। সেখানে মোটরসাইকেলে আসা হেলমেট ও মাস্ক পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করে নদীতে ফেলে দেয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়া হয় এবং মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। হামলাকারীদের মধ্যে দুজন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সজিবের দাবি, তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেয়া ব্যক্তি এমরান শিকদার, যাকে তিনি আগে থেকেই চিনতেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, এমরান নিজেকে বিভিন্ন পরিচয়ে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ইউনুস নামে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে হামলার খবর পেয়ে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু শুক্রবার ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহত সাংবাদিককে দেখতে যান। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।


