লাকসামে সরকারি খাল দখল ও ভরাটের অভিযোগ

কুমিল্লার লাকসাম পৌর এলাকার ফতেহপুর এলাকায় সরকারি খাল দখল ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে।

লাকসাম (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

Location :

Laksam
লাকসামে সরকারি খাল দখল ও ভরাটের অভিযোগ
লাকসামে সরকারি খাল দখল ও ভরাটের অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

কুমিল্লার লাকসাম পৌর এলাকার ফতেহপুর এলাকায় সরকারি খাল দখল ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (২১ জুন) সকাল ১০টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে লাকসাম পৌর এলাকার ফতেপুর গ্রামে সরকারি খাল দখল ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে মাটি ভরাটের সত্যতা পাওয়া যায়।

স্থানীয়দের দাবি, খাল ভরাটের ফলে এলাকার স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লাকসাম পৌরসভার ফতেপুর গ্রামের মরহুম আলী আজগর মিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী আবুল কালাম একই এলাকার বিএনপি নেতা নিখোঁজ হুমায়ূন কবির পারভেজের বাড়ির পূর্ব পাশের সরকারি খালের একটি অংশ দখল করে মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়রা জানান, খালটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বৃষ্টির পানি অপসারণ ও আশপাশের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। খাল দখল ও ভরাট অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেবে, এর ফলে ফসলহানির আশঙ্কাও রয়েছে।

এলাকাবাসী খাল দখলও ভরাটের ঘটনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। তারা সরকারি খাল দখলমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের লাকসাম উপজেলার দ্বায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মো: মাহি উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি এখন জেনেছি। খালটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন। অনুমতি ছাড়া বাঁধ নির্মাণ বা ভরাট করা অবৈধ।

লাকসাম উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলন চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, বাঁধ নির্মাণকারী ব্যক্তি প্রশাসন বরাবর একটি আবেদন দিয়েছেন। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিষয়টি কী অবস্থায় আছে দেখে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, সরকারি খাল বা জলাশয়ে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ কিংবা ভরাটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন হলে তাদের থেকেও অনুমোদন নিতে হবে।