জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে নেতাকর্মীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে মিছিলসহ জেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হন। পরে একটি গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আমির মাওলানা মোবারক হোসেন। এতে বক্তব্য দেন ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক দল এনসিপির জেলা সদস্য সচিব প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা সদস্য সচিব মো: শিমুল চৌধুরী ও জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মোবারক হোসেন বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল বৈষম্য, কর্তৃত্ববাদ ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এতে এক হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ জীবন উৎসর্গ করেন এবং অসংখ্য মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত গণআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণীত হলেও এর বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।’
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ঋণ ভুলে গেলে চলবে না। তরুণ জুলাইযোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
প্রকৌশলী আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য দেশব্যাপী ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ কর্মসূচির লক্ষ্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গণভোটের রায়ের বাস্তবায়নের দাবি জোরালো করা এবং অতীতের গণহত্যা, গুম, হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করা।’
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সংস্কার প্রক্রিয়ার পক্ষে মত দিয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে। এতে জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষিত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কোনোভাবেই কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা ফিরে আসতে দেয়া হবে না।’
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তারই অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।



